Home আগরতলাপশ্চিম ত্রিপুরায় দুর্গাপুজোয় কড়া বিধিনিষেধ! ভিড় এলাকায় উচ্চ শব্দে ডিজে বক্স বাজানো নিষিদ্ধ

পশ্চিম ত্রিপুরায় দুর্গাপুজোয় কড়া বিধিনিষেধ! ভিড় এলাকায় উচ্চ শব্দে ডিজে বক্স বাজানো নিষিদ্ধ

by Debasish
0 comments 3 views

পুজোমণ্ডপে সিসিটিভি, জরুরি আলো ও অ্যাম্বুল্যান্স রাখার নির্দেশ প্রশাসনের, ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ‘নো এন্ট্রি’

আগরতলা, ১৩ অক্টোবর: শারদোৎসবকে শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করে তুলতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা প্রশাসন। দুর্গাপুজোর ভিড়পূর্ণ এলাকায় উচ্চ শব্দে ডিজে বক্স ও সাউন্ড সিস্টেম বাজানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি পুজোমণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুজো উদ্যোক্তাদের একাধিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ১২ অক্টোবর প্রজ্ঞা ভবনের এক নম্বর হলে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সমন্বয় বৈঠকে এই নির্দেশগুলি দেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরার জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার, পুলিশ সুপার নমিত পাঠক, ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট কান্তা জাঙ্গির, সদর মহকুমা শাসক মানিকলাল দাস-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক এবং বিভিন্ন ক্লাব ও পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা।

বৈঠকে জেলাশাসক ড. বিশাল কুমার বলেন, দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সকলকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের কথা মাথায় রেখে ভিড়পূর্ণ এলাকায় উচ্চ শব্দে ডিজে বক্স বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি। অতিরিক্ত শব্দের কারণে পুনেতে বিসর্জন উৎসব চলাকালীন এক শিশুর হৃদ্‌রোগে মৃত্যুর ঘটনার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন জেলাশাসক।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা

পুজোর সময় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হলে যাতে দর্শনার্থীরা সমস্যায় না পড়েন, সেজন্য প্রতিটি পুজোমণ্ডপে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। ইনভার্টার বা অন্য কোনও ব্যাকআপ ব্যবস্থা রাখা সম্ভব না হলে অন্তত চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা আলো জ্বালিয়ে রাখার মতো জরুরি আলোর ব্যবস্থা করতে হবে।

এছাড়া স্থানীয় এলাকা সম্পর্কে পরিচিত পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের সহজে চিহ্নিত করার জন্য বিশেষ রঙের টুপি অথবা দৃশ্যমান পরিচয়চিহ্ন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে বিপদে পড়লে দর্শনার্থীরা সহজেই তাঁদের সাহায্য নিতে পারেন।

বড় পুজোয় অ্যাম্বুল্যান্স, মণ্ডপে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ

মাঝারি ও বড় পুজো কমিটিগুলিকে জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার জন্য অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিন পুজোর ব্যস্ত সময়ে যাতে দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া যায়, সেজন্য অস্থায়ী চালকের ব্যবস্থাও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ক্লাবকে অন্তত দুই থেকে তিনটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপের ভিতরের অংশ এবং প্রবেশ ও প্রস্থান পথের উপর নজরদারি চালাতে হবে। পাশাপাশি প্রবেশ ও বেরোনোর পথ স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে কমলা বা হালকা সবুজের মতো উজ্জ্বল ফ্লুরোসেন্ট রঙের সাইনবোর্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।

পুজোমণ্ডপের প্রবেশ ও প্রস্থান গেটে পুলিশ, আগরতলা পুরনিগম এবং সংশ্লিষ্ট পুজো কমিটির জরুরি হেল্পলাইন নম্বর স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। এর ফলে কোনও শিশু বা ব্যক্তি নিখোঁজ হলে, কিংবা কারও জিনিসপত্র হারিয়ে গেলে দ্রুত প্রশাসনের সাহায্য নেওয়া সম্ভব হবে।

১৭ থেকে ২১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত নো এন্ট্রি

পুজোর দিনগুলিতে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন ট্রাফিক সুপারিনটেনডেন্ট কান্তা জাঙ্গির। তাঁর ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৫টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত ‘নো এন্ট্রি’ বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। এই সময়ের মধ্যে যাঁদের যানবাহন নিয়ে চলাচল করা প্রয়োজন, তাঁদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বৈধ পাস সঙ্গে রাখতে হবে।

যান চলাচল সংক্রান্ত বিস্তারিত রোডম্যাপ ও নির্দেশিকা সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে, রাস্তার উপর কিংবা পুজোমণ্ডপের সামনে ইট, বালি বা অন্যান্য নির্মাণসামগ্রী ফেলে না রাখার জন্য বাসিন্দা ও পুজো উদ্যোক্তাদের সতর্ক করা হয়েছে। এগুলির কারণে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি যানবাহনের দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে ‘গ্রিন করিডর’ তৈরির ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।

পুজোর চাঁদা আদায় নিয়ে এখনও কোনও অভিযোগ নেই: পুলিশ সুপার

পশ্চিম ত্রিপুরার পুলিশ সুপার নমিত পাঠক জানান, জেলায় শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ দুর্গাপুজো নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। পুজোর চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে জোরজবরদস্তি বা তোলাবাজির কোনও অভিযোগ এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে আসেনি বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, পুজোর আনন্দ যাতে কোনওভাবেই বিশৃঙ্খলা, দুর্ঘটনা কিংবা জরুরি পরিষেবার ঘাটতির কারণে বিঘ্নিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এখন পুজো কমিটিগুলি কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে নির্দেশগুলি পালন করে, তার উপরই অনেকাংশে নির্ভর করবে এবারের শারদোৎসবের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা।

You may also like

Leave a Comment