Home আগরতলাদেউলিয়াপনার রাজনীতি চলছে”—ভিলেজ কমিটি ভোটের ময়দানে বিজেপি-আইপিএফটি-তিপ্রা মথাকে তীব্র নিশানা জীতেন্দ্র চৌধুরীর

দেউলিয়াপনার রাজনীতি চলছে”—ভিলেজ কমিটি ভোটের ময়দানে বিজেপি-আইপিএফটি-তিপ্রা মথাকে তীব্র নিশানা জীতেন্দ্র চৌধুরীর

by Debasish
0 comments 0 views

আগরতলা, ২৪ সেপ্টেম্বর : আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ত্রিপুরার রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। পাহাড় ও এডিসি এলাকায় নির্বাচনী প্রচারে শাসক জোট বিজেপি, আইপিএফটি ও তিপ্রা মথার বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, রতন লাল নাথের নেতৃত্বে বিজেপি-আইপিএফটি-তিপ্রা মথা জোট ‘দেউলিয়াপনার রাজনীতি’ করছে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থকে উপেক্ষা করা হচ্ছে।

জীতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, আসন্ন ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, গত কয়েক বছরে গ্রামীণ মানুষের অধিকার, কর্মসংস্থান, রেগার কাজ, রেশন এবং সামাজিক ভাতা বণ্টনকে ঘিরে একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনকে সাধারণ মানুষ শাসক দলের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশের একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

মনোনয়ন ঘিরে শাসক দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

নির্বাচনী প্রচারে জীতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, প্রায় অর্ধেক আসনে বিরোধী প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, কোথাও কোথাও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে আসন দখলের চেষ্টা হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও দাবি করেন, যেসব আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে, তার বড় অংশে বামপন্থী দলগুলির প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। সিপিআই(এম), সিপিআই, আরএসপি, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং সিপিআই(এমএল)-সহ বাম দলগুলির পাশাপাশি বিজেপি ও তিপ্রা মথার কিছু বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীও নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এর মধ্য দিয়ে শাসক শিবিরের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষও প্রকাশ্যে এসেছে।

আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর ভোটগ্রহণ এবং ৫ অক্টোবর ভোটগণনাকে সামনে রেখে পরিবর্তনের বার্তাও দেন জীতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর দাবি, নির্বাচনী প্রচারে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলছে।

জ্ঞানেশ কুমারকে বরখাস্তের দাবি

এদিন দেশের নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরব হন জীতেন্দ্র চৌধুরী। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের কথা উল্লেখ করেন।

তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং কমিশনের অন্যান্য সদস্যদের আপত্তিও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে বরখাস্ত করার দাবি জানান তিনি। একইসঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তোলেন বাম নেতৃত্ব।

জীতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, একটি সাংবিধানিক ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকা অত্যন্ত জরুরি। রাজনৈতিক স্বার্থে নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও তিনি করেন। নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের দ্রুত ও নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

তরুণ প্রজন্মের ভূমিকার উপর জোর

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নতুন প্রজন্মের ভূমিকার উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন জীতেন্দ্র চৌধুরী। সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতা ও স্বাধীন মতপ্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি তরুণ প্রজন্মকে গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

বিশেষ করে ‘জেন জি’ ও ‘জেন আলফা’-র মতো নতুন প্রজন্ম আগামী দিনে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

You may also like

Leave a Comment