আগরতলা, ১৮ সেপ্টেম্বর: শুধু সংবাদ প্রকাশ নয়, সাংবাদিকদের নিজস্ব ডিজিটাল পরিচয়, আয়ের সম্ভাবনা এবং দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরির সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সামনে আসছে ‘এক দুনিয়া’। উদ্যোগটির মূল ভাবনা—সাংবাদিক অন্যের প্ল্যাটফর্মে শুধু কনটেন্ট তৈরি করবেন না, বরং নিজের তৈরি সংবাদ ও কনটেন্টের ভিত্তিতে নিজস্ব ডিজিটাল পরিচয় ও নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবেন।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে Facebook, YouTube-সহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতারা সংবাদ প্রকাশ করলেও সেই প্ল্যাটফর্মগুলির আয় ও পরিচালন কাঠামো মূলত সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিয়ন্ত্রণে থাকে। সেই জায়গায় ‘এক দুনিয়া’ সাংবাদিকের কনটেন্ট থেকে তৈরি মূল্যায়নে সাংবাদিকের সরাসরি অংশীদারিত্বের একটি মডেল তুলে ধরতে চাইছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রকাশিত কনটেন্ট থেকে বিজ্ঞাপন ও ভিউয়ের মাধ্যমে যে আয় তৈরি হবে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুসারে তার ৭০ শতাংশ সাংবাদিক এবং ৩০ শতাংশ প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্বচ্ছ হিসাবের মাধ্যমে এই রাজস্ব ভাগাভাগি পরিচালনার কথা জানানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি প্রত্যেক সাংবাদিকের জন্য তৈরি হবে নিজস্ব Digital Press Profile। “ekdunia.com/আপনার-নাম” ধরনের প্রোফাইলে সাংবাদিকের বায়ো, প্রকাশিত সংবাদ, পেশাগত পরিচিতি এবং যোগাযোগের তথ্য থাকবে। এর ফলে একজন সাংবাদিকের কাজের একটি দীর্ঘমেয়াদি ডিজিটাল আর্কাইভও গড়ে উঠতে পারে।
স্থানীয় স্তরে বিজ্ঞাপনের সুযোগ তৈরির কথাও রয়েছে এই উদ্যোগে। এলাকার দোকান, স্কুল, হাসপাতাল, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য সংস্থা সাংবাদিকের ডিজিটাল প্রোফাইলের মাধ্যমে সরাসরি বিজ্ঞাপনের জন্য যোগাযোগ করতে পারবে বলে উদ্যোগটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
‘এক দুনিয়া’র সঙ্গে AI Maa Network-এর মাধ্যমে গ্রাম ও স্থানীয় স্তরের সাংবাদিকদের যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি নিয়মিত ইতিবাচক ও জনকল্যাণমূলক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকদের জন্য Positive Barta Foundation-এর উদ্যোগে প্রেস মিট, অনুষ্ঠান ও সম্মাননার সুযোগ তৈরির কথাও বলা হয়েছে।
ভবিষ্যতের সাংবাদিকতার সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি ভিডিও, AI Voice এবং বহুভাষিক অনুবাদের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদকে আরও বৃহত্তর দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
উদ্যোক্তাদের মতে, ‘এক দুনিয়া’র মূল দর্শন হলো—সাংবাদিকের তৈরি কনটেন্ট শুধু একটি দিনের খবর হয়ে থাকবে না; সেটিই তাঁর ডিজিটাল পরিচয়, কাজের আর্কাইভ এবং ভবিষ্যতের সম্ভাবনার ভিত্তি হয়ে উঠবে।
অন্ত্যোদয়ের ডিজিটাল মিশনের ভাবনা হিসেবে উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু মানুষকে তথ্যের কাছে পৌঁছে দেওয়া নয়, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষকে ডিজিটাল সুযোগের অংশীদার করে তোলা। সেই লক্ষ্যেই সাংবাদিকদের নিজেদের পরিচয়, দর্শক ও নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।