Home ত্রিপুরাশান্তিপূর্ণ ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে কড়া প্রস্তুতি কমিশনের

শান্তিপূর্ণ ভিলেজ কমিটি নির্বাচন নিশ্চিত করতে কড়া প্রস্তুতি কমিশনের

by Debasish
0 comments 5 views

মোতায়েন ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্বে প্রচারে নিষেধাজ্ঞা

আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর: ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করল ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনকে সামনে রেখে মঙ্গলবার পরপর দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা এবং ভোটারদের নিরাপদে ভোটদানের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা হয়।

প্রথম বৈঠকটি হাইব্রিড পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক, আইজিপি (ল অ্যান্ড অর্ডার), বিভিন্ন জেলার জেলা নির্বাচন আধিকারিক তথা জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপাররা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনী প্রচারপর্বে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সমস্ত রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

নির্বাচনের দিন নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা যাতে সময়মতো পৌঁছতে পারেন, সে জন্য সেক্টর অফিসারদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করতে গোটা রাজ্যে ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) মোতায়েন করা হয়েছে। নির্বাচন-পূর্ব, ভোটগ্রহণ এবং ভোট-পরবর্তী—তিনটি পর্যায়েই এই বাহিনী মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত এরিয়া ডমিনেশন এবং ফ্ল্যাগ মার্চ চালানো হচ্ছে। জেলা নির্বাচন আধিকারিক ও পুলিশ সুপারদের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

ভোটাররা যাতে কোনও ধরনের ভয় বা প্রভাবের মধ্যে না পড়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।

বৈঠকে নির্বাচনী বিধিনিষেধ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৮৯, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা, ২০২৩-এর ধারা ১৬৩ এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন, ১৯৫১-এর ধারা ১২৬ অনুযায়ী আরোপিত বিধিনিষেধ ২৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টা থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এই সময়ের মধ্যে বাধ্যতামূলক ৪৮ ঘণ্টার নীরবতা পর্ব কার্যকর থাকবে। অর্থাৎ ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার আগের নির্ধারিত সময়ে কোনও ধরনের নির্বাচনী প্রচার বা ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রচার চালানো যাবে না। টেলিভিশন, রেডিও, কেবল নেটওয়ার্ক, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সংবাদপত্রসহ অন্যান্য মুদ্রিত ও বৈদ্যুতিন মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারমূলক বিষয়বস্তু প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

নীরবতা পর্বে ভোটারদের প্রভাবিত করতে পারে—এমন নির্বাচনী বিতর্ক, আলোচনা, মতামত এবং জনমত সমীক্ষা সম্প্রচার বা প্রকাশ না করার জন্য সংবাদমাধ্যমগুলিকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এছাড়াও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। সকাল ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাউডস্পিকার ব্যবহার করা যাবে। অতিরিক্ত শব্দে যাতে নবজাতক শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের অসুবিধা না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনকে নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে Assured Minimum Facilities (AMF) নিশ্চিত করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন। ভোটকেন্দ্রে পানীয় জল, বিদ্যুৎ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় বৈঠকে ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের জন্য নিযুক্ত নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তাঁদের আইনানুগ ভূমিকা ও দায়িত্ব, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছতা, অভিন্নতা এবং নির্ধারিত নিয়ম ও নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়গুলি বৈঠকে তুলে ধরা হয়।

নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা তাঁদের নির্ধারিত এলাকায় গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নজর রাখবেন এবং নিয়মিতভাবে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা দেবেন।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সচিবের জারি করা বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment