আগরতলা, ১২ সেপ্টেম্বর : রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী মহারাজগঞ্জ বাজারের পাইকারি মাছ বাজারের বিভিন্ন সমস্যা সরেজমিনে খতিয়ে দেখলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা। বাজারের পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতা, যানজট এবং ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে বাজারকে আধুনিক ও সুপরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে মহারাজগঞ্জ বাজারের পরিচ্ছন্নতা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মহারাজগঞ্জ বা গোলবাজারের ইতিহাস বহু পুরনো। ছোটবেলা থেকেই এই বাজারের সঙ্গে মানুষের পরিচয় রয়েছে। তাই বাজারের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। শুধু ‘স্বচ্ছ ভারত’ বললেই হবে না, বাজারের ব্যবসায়ী ও বাজার কমিটিকেও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দায়িত্ব নিতে হবে। বাজারের পরিবেশ সুন্দর থাকলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই উপকৃত হবেন বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, মহারাজগঞ্জ বাজারকে আধুনিক ও পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে নতুন ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট (DPR) তৈরির কাজ চলছে। এ বিষয়ে আগরতলা পুরনিগমের মেয়র ও কমিশনারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা হয়েছে। নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বাজারের পরিকাঠামো আরও উন্নত হবে এবং ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় পক্ষই সুবিধা পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাজারের যানজট ও অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সমস্যা সমাধানে শুধুমাত্র পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট এজেন্সির ওপর নির্ভর না করে ব্যবসায়ী, ক্রেতা এবং সাধারণ মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এদিন পাইকারি মাছ বাজারের ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের ঘর ও সীমানা প্রাচীর সংক্রান্ত সমস্যাও সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা যায়, অতীতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচল ও ঘোরানোর সুবিধার জন্য ব্যবসায়ীরা প্রায় ছয় ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলেন। বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অন্যত্র স্থানান্তরিত হওয়ার পর ওই জায়গা পুনরায় ব্যবহারের দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলা পুরনিগমের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় জায়গা মেপে নতুন ঘর নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রুত কাজ শুরু করার জন্য পুরনিগমের মেয়রকে নির্দেশও দেন তিনি।
এদিনের পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আগরতলা পুরনিগমের মেয়র দীপক মজুমদার, পুরনিগমের কমিশনার, স্থানীয় পৌর প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা। মুখ্যমন্ত্রীর সরেজমিনে পরিদর্শন ও উন্নয়নের আশ্বাসে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির সমাধানের আশায় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।