আগরতলা, ৪ সেপ্টেম্বর: আন্তর্জাতিক সীমান্তপথে মাদক পাচারের বিরুদ্ধে বড়সড় সাফল্য পেল নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (NCB)। ত্রিপুরা ও মিজোরামে পৃথক দুটি অভিযানে মোট ২২.২৯৯ কেজি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে NCB। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ১৭.৮৪ কোটি টাকা। এই ঘটনায় মায়ানমারের এক নাগরিক-সহ মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রথম অভিযানটি হয় ২ ও ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে মিজোরামে। NCB-র আইজল ফিল্ড অফিস, সেরছিপ পুলিশ, CID (SB) এবং সেরছিপ DSB-র যৌথ অভিযানে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন জোখাওথার-চামফাই এলাকায় এক মায়ানমারের নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁর কাছ থেকে ১৪.২৬ কেজি মেথামফেটামিন ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১১.৪১ কোটি টাকা।
মাদক পরিবহনে ব্যবহারের অভিযোগে একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল, দুটি মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য সামগ্রীও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। NDPS আইনে এই সমস্ত সামগ্রী জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, ৩ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরায় অভিযান চালায় NCB-র আগরতলা জোনাল ইউনিট। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সিপাহিজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের কাছে NH-8-এ TR-05H-1813 নম্বরের একটি টাটা ডাম্পার/টিপার আটক করা হয়। ধর্মনগর থেকে জোলাইবাড়ির দিকে মেথামফেটামিন পাচারের খবরের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালানো হয় বলে NCB সূত্রে জানা গেছে।
ঠাকুরছড়া, নিউ জোলাইবাড়িতে ডাম্পারের পাথরের বোঝা নামানোর পর গাড়িতে তল্লাশি চালান NCB আধিকারিকরা। তল্লাশির সময় কো-ড্রাইভারের আসনের নিচে একটি ব্যাগের মধ্যে আটটি প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা ৮.০৩৯ কেজি মেথামফেটামিন বা ইয়াবা (WY) ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক মূল্য ৬.৪৩ কোটি টাকা।
এই ঘটনায় উত্তর ত্রিপুরার বাসিন্দা জুনাব আহমেদ, লুৎফুর রহমান এবং বুরহান উদ্দিন-কে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ডাম্পারটিও বাজেয়াপ্ত করেছে NCB।
দুটি ঘটনাতেই তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকের উৎস কোথায়, কার কাছে এই চালান পৌঁছানোর কথা ছিল, এর সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র এবং পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।