Home আগরতলাবালি উত্তোলনের অনুমতি শিল্প দপ্তরের হাতে গেলে ধ্বংস হবে ত্রিপুরার নদী: জিতেন্দ্র চৌধুরী

বালি উত্তোলনের অনুমতি শিল্প দপ্তরের হাতে গেলে ধ্বংস হবে ত্রিপুরার নদী: জিতেন্দ্র চৌধুরী

by Debasish
0 comments 9 views

বন ও পরিবেশ দপ্তরের কাছেই বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব রাখার দাবি, ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা’ ও ওপেন স্কুল বোর্ড নিয়েও প্রশ্ন LoP-এর

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: নদী ও পরিবেশের সুরক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব বন দপ্তরের কাছ থেকে শিল্প দপ্তরের হাতে তুলে দেওয়ার রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করলেন বিরোধী দলনেতা তথা সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। বৃহস্পতিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তকে ‘ভুল ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে দাবি করেন।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, বালি উত্তোলনের বিষয়টি শুধুমাত্র রাজস্ব আদায় বা শিল্পের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এর সঙ্গে নদীর গতিপথ ও নাব্যতা, নদীর পাড়ের স্থায়িত্ব, ভাঙন, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা এবং সবুজায়ন সরাসরি জড়িত। তাই বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব বন ও পরিবেশ দপ্তরের কাছেই থাকা উচিত বলে দাবি করেন তিনি।

এক্ষেত্রে শিল্প দপ্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, দায়িত্ব বদলের ফলে পরিবেশগত বিষয়কে উপেক্ষা করে বালি উত্তোলনের সুযোগ বাড়তে পারে এবং এর মাধ্যমে শাসক দলের একটি অংশের কোটি কোটি টাকা আয়ের পথ প্রশস্ত হতে পারে।

বালি উত্তোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন দপ্তরের ইতিমধ্যেই রাজ্যজুড়ে একটি বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের পরিকাঠামো রয়েছে। জেলা বন আধিকারিক, মহকুমা বন আধিকারিক, রেঞ্জ অফিসার, ফরেস্টার, বনরক্ষী ও ওয়াচারসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা রয়েছেন। তা সত্ত্বেও রাজ্যের একাধিক নদী ও জলধারায় বেআইনি বালি উত্তোলনের কারণে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

“বালি উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া শিল্প দপ্তরের হাতে তুলে দিলে ত্রিপুরার নদী ও জলধারার আরও ক্ষতি হবে,” বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। অবিলম্বে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।

এদিন ‘ডেস্টিনেশন ত্রিপুরা’ কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। প্রায় ১২০০ বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণ এবং কয়েক লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগের যে দাবি করা হচ্ছে, তার বাস্তবতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যে দিল্লিভিত্তিক ‘সর্বহারা ফাউন্ডেশন’-এর উদাহরণ উঠে আসে। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাটির পেইড-আপ ক্যাপিটাল মাত্র ১ লক্ষ টাকা হলেও ত্রিপুরায় প্রায় ৫০ কোটি টাকার পরিকাঠামো তৈরির পরিকল্পনার সঙ্গে তাদের নাম জড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত ‘ওপেন স্কুল বোর্ড’ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কোর্সের সার্টিফিকেট দিল্লি থেকে পরিচালিত কোনও সংস্থার মাধ্যমে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। এই ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

সব মিলিয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ থেকে বিনিয়োগ ও শিক্ষা—বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের নীতির সমালোচনা করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ত্রিপুরার পরিবেশের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

You may also like

Leave a Comment