শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল করার অভিযোগ, বিল পাসের প্রতিবাদে বিরোধীদের ওয়াকআউট
আগরতলা, ৩১ আগস্ট : ‘ত্রিপুরা ওপেন স্কুল বোর্ড বিল’ এবং একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংক্রান্ত বিলকে ঘিরে ত্রিপুরা বিধানসভায় তীব্র আপত্তি জানালেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নের পরিবর্তে সরকার এমন কিছু পদক্ষেপ করছে, যার ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে বেসরকারিকরণ ও বাণিজ্যিকীকরণের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। একইসঙ্গে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুর্বল করে দেওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি স্কুলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক না থাকায় কোথাও কোথাও একক শিক্ষক দিয়ে পঠনপাঠন চালাতে হচ্ছে। এর ফলে অভিভাবকদের একাংশ সন্তানদের বেসরকারি স্কুলে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকারি স্কুলের পরিকাঠামো ও শিক্ষক সংকট দূর করার পরিবর্তে যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার উপর তার নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
‘ওপেন স্কুল বোর্ড বিল’ নিয়েও প্রশ্ন:
‘ত্রিপুরা ওপেন স্কুল বোর্ড বিল’-এর বিভিন্ন দিক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর বক্তব্য, মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবং ভোকেশনাল কোর্সের শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, শিক্ষার মান এবং শংসাপত্রের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষাকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে পরিণত করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী অভিযোগ করেন, যথাযথ নজরদারি ও মান নিয়ন্ত্রণের অভাব থাকলে শিক্ষার নামে ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই বিলটির সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যতে এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও নিশ্চয়তা মিলবে, তা নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়ে সরব:
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষার মান, পরিকাঠামো এবং শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও বিধানসভায় প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। ধম্মদীপা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানতে চান, উচ্চশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলিতে শিক্ষক ও বিভাগীয় প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে যথাযথ যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার মানদণ্ড মানা হচ্ছে কি না।
আইন, গণিত ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষার মান বজায় রাখতে যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি। NET, SLET, PhD-সহ প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি জানান বিরোধী দলনেতা।
বিল পাসের প্রতিবাদে ওয়াকআউট:
শিক্ষা সংক্রান্ত বিলগুলি নিয়ে সরকারের অবস্থানের প্রতিবাদ জানিয়ে বিরোধী সদস্যরা বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন। জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থ সরাসরি জড়িত। তাই শিক্ষাক্ষেত্রে কোনও আইন প্রণয়নের আগে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব, শিক্ষার মান এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।