Home আগরতলাস্বনির্ভর পঞ্চায়েত গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভা, নেশামুক্ত পঞ্চায়েত ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ জোর, উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা

স্বনির্ভর পঞ্চায়েত গড়ার লক্ষ্যে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভা, নেশামুক্ত পঞ্চায়েত ও বাল্যবিবাহ রোধে বিশেষ জোর, উন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা

by Debasish
0 comments 13 views

আগরতলা, ৩ সেপ্টেম্বর: পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর করে তোলার পাশাপাশি সমাজ থেকে নেশা ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ জেলা সভার আয়োজন করল পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদ। বৃহস্পতিবার পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও সমাহর্তার কার্যালয়ের কনফারেন্স হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল সহ জেলা পরিষদের অন্যান্য নির্বাচিত প্রতিনিধি, বিভিন্ন পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।

সভায় পঞ্চায়েত এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, পঞ্চায়েতগুলির নিজস্ব আয় বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন, জল সংরক্ষণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চলতি অর্থবর্ষে গ্রহণ করা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

পঞ্চায়েতগুলিকে আরও আত্মনির্ভর করে তুলতে নিজস্ব রাজস্ব বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করে পঞ্চায়েতগুলিকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ ও সবুজায়ন এবং জল সংরক্ষণে স্থানীয় স্তরে কার্যকর কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিকে আরও বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সামাজিক ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে সভায়। নেশামুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে প্রতিটি পঞ্চায়েতকে পর্যায়ক্রমে ‘নেশামুক্ত পঞ্চায়েত’ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি বাল্যবিবাহ রোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক নজরদারি এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ১৬তম অর্থ কমিশনের অধীনে উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। এই খাতে কাজ শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়ন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সভায় বক্তারা বলেন, পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে আরও কার্যকর, স্বনির্ভর ও জনমুখী করে তোলাই অন্যতম লক্ষ্য। দলমত নির্বিশেষে সমাজের অন্তিম ব্যক্তির কাছে যাতে সরকারি উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে যায়, তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জেলা পরিষদের এই সভায় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত প্রাপক ও প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়। পঞ্চায়েতের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উন্নয়নমূলক কাজের গতি বাড়ানো, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং নেশামুক্ত সমাজ গঠনের মধ্য দিয়ে গ্রামীণ স্তরে সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এই জেলা সভার অন্যতম লক্ষ্য বলে জানানো হয়।

You may also like

Leave a Comment