Home আগরতলাAIKS-এর সমাবেশ থেকে বিজেপি সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্র চৌধুরীর, ‘গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন’

AIKS-এর সমাবেশ থেকে বিজেপি সরকারকে নিশানা জিতেন্দ্র চৌধুরীর, ‘গণতন্ত্র ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন’

by Debasish
0 comments 13 views

আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর: গণতান্ত্রিক অধিকার, কর্মসংস্থান, আউটসোর্সিং এবং রাজ্যের সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক প্রশ্ন তুললেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরী। মঙ্গলবার আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে অল ইন্ডিয়া কৃষক সভা (AIKS)-র তিন দিনব্যাপী রাজ্য সম্মেলন উপলক্ষে আয়োজিত প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, রাজ্যে গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত হচ্ছে এবং বিরোধীদের কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষ যাতে অংশ না নেন, সেজন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন এলাকায় যানবাহন আটকে দেওয়ার পাশাপাশি সমাবেশে যোগ না দেওয়ার জন্য মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেও কৃষক, ঝুমিয়া চাষি, কৃষি শ্রমিক, মহিলা এবং অন্যান্য অংশের মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হওয়ায় তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি।

জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর পর AIKS-এর রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর জন্য তিনি রাজ্যের ‘অস্বাভাবিক পরিস্থিতি’কে দায়ী করেন। তাঁর বক্তব্য, গণতান্ত্রিক সংগঠনগুলির স্বাভাবিক কার্যক্রমও বিভিন্নভাবে বাধার মুখে পড়ছে।

গণতন্ত্র ও সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে প্রশ্ন

রাজ্যে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক অধিকার চাপের মুখে রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক। সম্প্রতি টিটিএএডিসি এলাকায় নয় বছর পর ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের ঘোষণা প্রসঙ্গেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর নির্বাচন ঘোষণাকে রাজ্যের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার দুর্বলতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

ডিজিপির অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়েও প্রশ্ন

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। রাজ্যের পুলিশ বিভাগের সর্বোচ্চ পদে থাকা ডিজিপির অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকই যদি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে নিরাপদ বোধ করবেন? ওই ঘটনার বিষয়ে আরও জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার দাবি জানান তিনি।

৪৮ হাজার নিয়োগের পরও কেন শূন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান?

কর্মসংস্থান ও আউটসোর্সিংয়ের প্রসঙ্গেও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন তিনি। অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়ের বক্তব্যে উল্লেখ করা পরিসংখ্যানের প্রসঙ্গ টেনে জিতেন্দ্র চৌধুরী দাবি করেন, প্রায় ২২ হাজার নিয়মিত নিয়োগের পাশাপাশি আরও প্রায় ২৬ হাজার পদ আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে পূরণ করা হয়েছে। তাঁর প্রশ্ন, সব মিলিয়ে যদি প্রায় ৪৮ হাজার কর্মী যুক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে স্কুল, হাসপাতাল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সরকারি দফতরে এখনও এত শূন্যতা কেন?

আউটসোর্সিংয়ের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে শাসকদলের কিছু অংশ কমিশনের সুবিধা পাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পিডব্লিউডি, আরডি এবং কৃষি-সহ বিভিন্ন দফতরের পরিস্থিতিকে ‘মাফিয়া রাজ’ ও ‘কমিশন রাজ’ বলে কটাক্ষ করেন তিনি। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার রাস্তার বেহাল দশা নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন সিপিআই(এম) রাজ্য সম্পাদক।

সমাবেশ থেকে কৃষক, শ্রমিক, যুবসমাজ এবং সমস্ত গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য, সাংবিধানিক অধিকার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলা প্রয়োজন।

You may also like

Leave a Comment