আগরতলা, ২৮ আগস্ট: আগরতলার নন্দননগর এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্ন তুললেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর প্রশ্নের জবাবে নগর উন্নয়ন দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা পুরনিগমের উচ্ছেদ ও এনফোর্সমেন্ট অভিযানের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগরতলা পুরনিগম এলাকায় রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, পথচারীদের চলাচল স্বাভাবিক করা এবং যানজট নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে এনফোর্সমেন্ট ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নন্দননগর-সহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল ও অনুমোদনহীন নির্মাণের বিরুদ্ধে পুরনিগমের টাস্ক ফোর্স নজরদারি চালিয়ে যাচ্ছে।
বিধানসভায় দেওয়া তথ্যে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে আগরতলা পুরনিগমের চারটি জোনে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯৬টি উচ্ছেদ ও এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোট ৪১২টি অনুমোদনহীন স্ট্রিট ভেন্ডিং ইউনিট, অবৈধ কাঠামো এবং অবৈধ মাংস বিক্রির দোকান সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ডন বস্কো স্কুল সংলগ্ন এলাকাতেও গত ১১ আগস্ট বিশেষ অভিযান চালানো হয়। সড়কের ওপর অবৈধভাবে গড়ে ওঠা সবজি বাজার ও অন্যান্য দোকান সরাতে অভিযানের আগে মাইকযোগে ব্যবসায়ীদের একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। নির্দেশ না মানা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ১৯৯৪ সালের ত্রিপুরা পুরনিগম আইনের সংশ্লিষ্ট ধারার ভিত্তিতেই এই ধরনের উচ্ছেদ ও এনফোর্সমেন্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়। নন্দননগর ছাড়াও নন্দননগর, অভয়নগর, জিবি বাজার, বিমানবন্দর সড়ক সংলগ্ন জনবহুল এলাকা এবং বিভিন্ন স্কুলের সামনে অবৈধ দখলমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি চলছে।
জনসাধারণের চলাচলের পথ উন্মুক্ত রাখা, পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে এই অভিযান আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে বিধানসভায় স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা। একইসঙ্গে পুরনিগমের এই কাজে শহরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।