আগরতলা, ২৭ আগস্ট: রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীদের বেতন পরিকাঠামো এবং বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) নিয়ে ত্রিপুরা বিধানসভায় সরব হলেন বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায় বর্মন। কর্মচারীদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, চতুর্থ বেতন কমিশনের পর থেকে রাজ্যে আর পূর্ণাঙ্গ বেতন কমিশন গঠন করা হয়নি। সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তার পরিবর্তে এক্সপার্ট কমিটি গঠন করে কর্মচারীদের প্রত্যাশা পূরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নিয়েও সরকারের সমালোচনা করে বিরোধী দলনেতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরকে সর্বনিম্ন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ত্রিপুরায় সেটিকেই সর্বোচ্চ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর ফলে রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
একই পদে কর্মরত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় একই হলেও বেতন কাঠামোয় এত পার্থক্য কেন থাকবে, সেই প্রশ্নও বিধানসভায় তোলেন সুদীপ রায় বর্মন।
এদিন ক্যাজুয়াল, পার্ট-টাইম ও আউটসোর্স কর্মচারীদের সমস্যার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন আউটসোর্সিং এজেন্সিকে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ প্রদান করলেও অনেক কর্মচারী মাসে মাত্র ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। কর্মীদের নিয়মিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও এখনও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা DA নিয়েও সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের এখনও প্রায় ১৯ শতাংশ DA বকেয়া রয়েছে। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রতিবেশী অসমের উদাহরণ তুলে ধরে প্রশ্ন করেন, অসমে একই রাজনৈতিক সরকারের অধীনে কর্মচারীদের DA দেওয়া সম্ভব হলে ত্রিপুরায় তা কেন সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, অর্থমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায় বিধানসভায় রাজ্যে অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করায় তাকে স্বাগত জানান সুদীপ রায় বর্মন। তবে তিনি দাবি করেন, এবার যেন কোনও প্রশাসনিক বা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না রেখে পূর্ণাঙ্গ বেতন কমিশন গঠন করা হয়।
কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ এবং সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন-পেনশন সংক্রান্ত অসঙ্গতি দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।