নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: সরকারি চাকরিতে স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র বা PRTC (Permanent Resident of Tripura Certificate)-এর গুরুত্ব ও বাধ্যবাধকতা নিয়ে বিধানসভায় সরব হলেন বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। PRTC-এর নিয়ম শিথিল বা উন্মুক্ত করা হলে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরা চাকরির ক্ষেত্রে বঞ্চিত হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে রঞ্জিত দেববর্মা বলেন, রাজ্যের সীমিত সরকারি চাকরির সুযোগে স্থানীয় বেকারদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা প্রয়োজন। PRTC-এর বাধ্যবাধকতা না থাকলে অন্যান্য রাজ্য থেকে আবেদনকারীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন, যার ফলে ত্রিপুরার চাকরিপ্রার্থীদের প্রতিযোগিতা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রাজ্যসহ হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডের উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন রাজ্যে স্থায়ী বাসিন্দা সংক্রান্ত নিয়ম কার্যকর রয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ থাকলেও রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বার্থ বিবেচনা করে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
বিধানসভায় PRTC পাওয়ার ক্ষেত্রে বসবাস ও প্রয়োজনীয় নথিপত্রের বিভিন্ন বিষয়ও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে ত্রিপুরায় জন্ম, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে বসবাস, বাবা-মা বা অভিভাবকের ত্রিপুরায় বসবাসের তথ্য, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত নথি, স্থায়ী বাসিন্দার প্রমাণ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির বিষয় উল্লেখ করা হয়।
বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বক্তব্য, PRTC-এর নিয়ম শিথিল করা হলে ত্রিপুরার উপজাতি ও অ-উপজাতি—উভয় সম্প্রদায়ের শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীরাই প্রতিযোগিতায় সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। তাই স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে PRTC সংক্রান্ত নীতি পুনর্বিবেচনার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
রাজ্যের বেকারদের চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখাই মূল লক্ষ্য—PRTC নীতি নিয়ে বিধানসভায় রঞ্জিত দেববর্মার সরব অবস্থান।