Home আগরতলাফিদেল কাস্ত্রোকে ঘিরে বিধানসভায় তুমুল বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ নিয়ে রতন লাল নাথের অভিযোগ খারিজ জিতেন্দ্র চৌধুরীর

ফিদেল কাস্ত্রোকে ঘিরে বিধানসভায় তুমুল বিতর্ক, জাতীয়তাবাদ নিয়ে রতন লাল নাথের অভিযোগ খারিজ জিতেন্দ্র চৌধুরীর

by Debasish
0 comments 19 views

আগরতলা, ২৭ আগস্ট: ত্রিপুরা বিধানসভার বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা দেখা দেয়। জাতীয়তাবাদ নিয়ে বিতর্কের জেরে কিছুক্ষণের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিধানসভা।

জিরো আওয়ারে বিষয়টি উত্থাপন করেন সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী রতন লাল নাথ। সিপিআই(এম) আয়োজিত ফিদেল কাস্ত্রোর জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরীর উপস্থিতি এবং সেখানে ভারতীয় তেরঙ্গার পাশাপাশি কিউবার পতাকা প্রদর্শন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি, অনুষ্ঠানে জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্যের কিছু অংশকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদ নিয়ে প্রশ্ন তোলার অভিযোগও করেন মন্ত্রী।

এরপরই বিজেপি বিধায়করা বিরোধী দলনেতার কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। শাসক ও বিরোধী বেঞ্চের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাদানুবাদ। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে শেষ পর্যন্ত বিধানসভার অধিবেশন মুলতবি করতে হয়।

পরে অভিযোগ খারিজ করে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করে একটি রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল ভারতের ঐতিহ্যবাহী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিশ্বজুড়ে মানবতার পক্ষে ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা ব্যক্তিত্ব ও জনগণের প্রতি ভারতের শ্রদ্ধাবোধ।

ফিদেল কাস্ত্রো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁকে দেশপ্রেম, প্রতিরোধ এবং জাতীয় স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক হিসেবেও দেখা যেতে পারে। নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো ভাষণ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং চিকিৎসক তারকনাথ কোৎনিসের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।

‘বসুধৈব কুটুম্বকম’-এর ধারণার উল্লেখ করে জিতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্য, ভারতীয় জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণ বা বর্জনমূলক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা উচিত নয়। একইসঙ্গে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে কিউবার পতাকা প্রদর্শন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।

বিরোধী দলনেতা আরও বলেন, বিধানসভার জিরো আওয়ারে এই বিষয়টি উত্থাপন না করে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত ছিল।

বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক সংঘাত তৈরি হয়। জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক সংহতি এবং রাজনৈতিক প্রতীকের ব্যবহারকে ঘিরে বিতর্কই অধিবেশনের প্রথম বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে সামনে আসে।

You may also like

Leave a Comment