Home আগরতলাত্রিপুরার উন্নয়নে পরিকাঠামো, পর্যটন ও বাঁশশিল্পে জোর

ত্রিপুরার উন্নয়নে পরিকাঠামো, পর্যটন ও বাঁশশিল্পে জোর

by Debasish
0 comments 21 views

রাজ্যপালের সঙ্গে নীতি আয়োগের সদস্যের বৈঠক, আলোচনায় ‘বিকশিত ত্রিপুরা@২০৪৭’

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২২ আগস্ট: ত্রিপুরার সার্বিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে পরিকাঠামো, জ্বালানি নিরাপত্তা, সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন, পর্যটন এবং বাঁশশিল্পকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শনিবার ত্রিপুরার রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন নীতি আয়োগের সদস্য ড. জোরাম আনিয়া। বৈঠকে রাজ্যের উন্নয়ন পরিকল্পনা ও বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করে গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কৃষি, পশুপালন এবং বাঁশভিত্তিক অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়েও মতবিনিময় করেন তাঁরা।

বিশেষভাবে বাঁশশিল্পের ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত সামগ্রীর মূল্য সংযোজন, স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা এবং কর্মসংস্থান ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করার পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পোদ্যোগীদেরও উৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বৈঠকে ত্রিপুরার পর্যটন সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে উনকোটি ও ছবিমুড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে ঘিরে আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক পর্যটনের প্রসারের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পর্যটনের বিকাশের পাশাপাশি রাজ্যের আদিবাসী শিল্প, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্থানীয় পরম্পরাকে সংরক্ষণের ওপরও জোর দেওয়া হয়।

এছাড়াও টেকসই পর্যটন ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় মানুষের জন্য অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি এবং রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে রাজ্যের যুবসমাজকে আরও সক্রিয় ও আত্মনির্ভর করে তুলতে খেলাধুলা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা হয়। যুবকদের প্রতিভা বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি করে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে।

রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু ত্রিপুরার উন্নয়নের লক্ষ্যে নীতি আয়োগ এবং ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার বিষয়ে তাঁর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। জাতীয় স্তরে ‘বিকশিত ভারত@২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘বিকশিত ত্রিপুরা@২০৪৭’-এর স্বপ্ন বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকটি রাজ্যের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা, স্থানীয় সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং যুবসমাজের জন্য নতুন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

You may also like

Leave a Comment