আগরতলা, ২০ আগস্ট : সরকারি কর্মচারীর স্বীকৃতি, সমকাজে সমবেতন, অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি-সহ সাত দফা দাবিতে রাজপথে নামলেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকারা। দাবিগুলির দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে অভয়নগর-মালঞ্চ এলাকায় রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দপ্তরে দাবি জানিয়েও প্রত্যাশিত সমাধান না মেলায় এই আন্দোলনে নামতে হয়েছে বলে দাবি বিক্ষোভকারীদের।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাঁদের। সময়মতো বিভিন্ন বিল না পাওয়া এবং বরাদ্দ অর্থ বাজারদরের তুলনায় কম হওয়ায় অনেক সময় নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে কেন্দ্রের কাজ চালাতে হচ্ছে। বিক্ষোভস্থলে এক নেত্রী উদাহরণ দিয়ে দাবি করেন, বাজারে একটি ডিমের দাম যেখানে প্রায় ১০ টাকা, সেখানে কেন্দ্রের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৬ টাকা ২৫ পয়সা। ফলে বাস্তবে ওই বরাদ্দে পুষ্টিকর খাবার সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, কেন্দ্র পরিচালনার বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়, স্টক খাতা, মোবাইল অ্যাপ ও অন্যান্য প্রশাসনিক কাজের জন্য তাঁদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত নজরদারি ও পরিদর্শনের মাধ্যমে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও সহায়িকাদের সরকারি ও একাডেমিক স্বীকৃতি প্রদান, সমকাজে সমবেতন ব্যবস্থা চালু এবং অবসরকালীন গ্র্যাচুইটি প্রদান। পাশাপাশি কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, কেন্দ্র পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ এবং বিভিন্ন বকেয়া সুবিধা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।
আন্দোলনকারীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং পুষ্টি পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে আসছেন। অথচ তাঁদের নিজেদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি এখনও যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। তাই সরকারকে অবিলম্বে আলোচনায় বসে দাবিগুলি বিবেচনা করার আহ্বান জানান তাঁরা।
বিক্ষোভকারীদের হুঁশিয়ারি, দাবিগুলি নিয়ে সরকার দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ না নিলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন তাঁরা। আন্দোলনের জেরে এদিন মালঞ্চ এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে।