আগরতলা, ১৬ আগস্ট: দক্ষিণ বাধারঘাট এলাকায় রাম নিবাস আশ্রমের জমি দখল ও বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আশ্রমের একটি বড় অংশ স্থানীয় কিছু ভূমিদস্যু বেআইনিভাবে দখলের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ তুলেছে মন্দির কমিটি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বিধায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
রবিবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে মন্দির কমিটির সদস্যরা জানান, মহারানি কাঞ্চন প্রভা দেবী রাম নিবাস আশ্রমের জন্য প্রায় ২২ কানি জমি দান করেছিলেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর আগে কাদম্বিনী দেবী একটি ট্রাস্ট গঠন করে ওই সম্পত্তি যাতে কোনওভাবেই বিক্রি করা না যায়, সেই ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন বলেও দাবি কমিটির।
কমিটির অভিযোগ, গত কয়েকদিনে আশ্রমের জমির একটি বড় অংশে কয়েকজন ব্যক্তি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে কমিটির সদস্যদের নজরে আসে, ওই জমি বিক্রির চেষ্টাও চলছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরই আশ্রম কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পুলিশের দ্বারস্থ হওয়া হয়।
মন্দির কমিটির সদস্যদের দাবি, আশ্রমের সম্পত্তি রক্ষা করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে তাঁরা মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার দ্বারস্থ হয়ে বিষয়টি তুলে ধরবেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে বাধারঘাট এলাকায় ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কয়েকটি ক্লাব ও সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কিছু গোষ্ঠী এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শতাংশ অর্থ না দিলে সাধারণ মানুষকে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অন্যদিকে চিকিৎসার খরচ, ঋণ পরিশোধ কিংবা জরুরি প্রয়োজনে জমি বিক্রি করতে যাওয়া মানুষদের কাছ থেকেও স্থানীয় কিছু গোষ্ঠী শতাংশের ভিত্তিতে অর্থ দাবি করছে বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। তবে ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইছেন না বলেও দাবি স্থানীয়দের।
যদিও জমি দখল, বিক্রি কিংবা শতাংশের টাকা দাবি সংক্রান্ত অভিযোগগুলির সত্যতা তদন্তসাপেক্ষ। আশ্রমের জমি সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ও পুলিশ কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
