আগরতলা: কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ও অগ্রগতি পর্যালোচনায় রাজ্যভিত্তিক ‘দিশা’ (DISHA) কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো আগরতলায়। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের বর্তমান পরিস্থিতি, সাফল্য এবং সমস্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহা জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প বাস্তবায়নে ত্রিপুরার সামগ্রিক পারফরম্যান্স সন্তোষজনক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রাজ্য ‘স্যাচুরেশন পয়েন্টে’ পৌঁছানোর পথে রয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও স্টেট লেভেল ‘দিশা’ কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রায় আড়াই থেকে তিন ঘণ্টার এই বৈঠকে বিশেষভাবে রাস্তাঘাট নির্মাণ, পানীয় জলের ব্যবস্থা, বিদ্যালয় শিক্ষা, পরিকাঠামো উন্নয়নসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়।
ড. মানিক সাহা বলেন, এক-দুটি ক্ষেত্র বাদ দিলে অধিকাংশ কেন্দ্রীয় প্রকল্পেই ত্রিপুরা ভালোভাবে কাজ করছে। অনেক প্রকল্পের কাজই প্রায় শতভাগ পূরণের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে শুধু সরকারি নথি বা পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকল্পের সাফল্য বিচার না করে, বাস্তবে সাধারণ মানুষ কতটা উপকৃত হচ্ছেন এবং তৃণমূল স্তরে প্রকল্পগুলির কী পরিস্থিতি—সেই ‘গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি’ জানাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে সরকার ও বিরোধী দলের বিধায়ক, মন্ত্রী, কমিটির সদস্য এবং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনায় জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন সমস্যা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে থাকা প্রতিবন্ধকতার বিষয়গুলি তুলে ধরেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বৈঠকে উত্থাপিত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলি কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পগুলির সুফল যাতে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায় এবং বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেসব ঘাটতি রয়েছে তা দূর করে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, সেই লক্ষ্যেই এই পর্যালোচনা বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবেশেই ‘দিশা’ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। আগামী দিনে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন আরও ত্বরান্বিত করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সরকার আরও গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
