Home আগরতলাত্রিপুরায় বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের সূচি ঘোষণা, ম্যাপিং ও নথি জমা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা সিইও-র

ত্রিপুরায় বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধনের সূচি ঘোষণা, ম্যাপিং ও নথি জমা নিয়ে স্পষ্ট বার্তা সিইও-র

by Rajesh Roy
0 comments

আগরতলা, ৭ আগস্ট: আসন্ন ভোটার তালিকাকে আরও নির্ভুল, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ত্রিপুরায় বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (Special Intensive Revision-SIR) কর্মসূচির সূচি ঘোষণা করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার আগরতলায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কর্মসূচির সময়সূচি, নিয়মাবলি এবং ভোটারদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়।

নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন গত ১৪ মে দেশের ১৯টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ নিবিড় সংশোধন কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং অযোগ্য বা ভুয়ো নাম শনাক্ত করে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া।

সিইও জানান, আগামী ১ অক্টোবর, ২০২৬-কে যোগ্যতা নির্ধারণী (Qualifying Date) হিসেবে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ ওই তারিখে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে এবং যাঁরা ভারতের নাগরিক, তাঁরা ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)-রা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের তথ্য যাচাই করবেন এবং প্রাক-মুদ্রিত এনুমারেশন ফর্ম বিতরণ করবেন। কোনো ভোটার প্রথমবার বাড়িতে না থাকলে অন্তত তিনবার ওই বাড়িতে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২১ অক্টোবর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে এবং দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির পর ২৩ ডিসেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

banner

সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক জানান, ২০২৫ সালের ভোটার তালিকাকেই এবারের সংশোধনের ভিত্তি হিসেবে ধরা হচ্ছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের জন্যই এনুমারেশন ফর্ম প্রস্তুত করা হবে। তিনি স্পষ্ট করেন, ২০০৫ সালের ভোটার তালিকায় নাম না থাকলেও ২০২৫ সালের তালিকায় নাম থাকলে কোনো ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই।

তিনি আরও জানান, এই প্রক্রিয়ায় মূলত ভোটারদের ম্যাপিং করা হবে। যাঁদের ম্যাপিং সহজে সম্পন্ন হবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে পরিচয় বা অন্যান্য তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট নথি জমা দিতে হতে পারে। ভোটারের বয়স ও তথ্যের ভিত্তিতে এক বা একাধিক নথি চাওয়া হতে পারে।

সিইও বলেন, ইতিমধ্যেই বুথ লেভেল অফিসারদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে পরিবার বা পূর্ববর্তী রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে সহজেই ভোটারদের ম্যাপিং করা সম্ভব হবে বলে তিনি জানান।

অন্য রাজ্য থেকে স্থানান্তরিত ভোটারদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের ওয়েবসাইটে পূর্ববর্তী বিশেষ নিবিড় সংশোধনের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। কোনো ভোটার তাঁর আগের রাজ্য, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং পিতা বা পিতামহের নাম সঠিকভাবে জানাতে পারলে সেই তথ্য যাচাই করে সহজেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে। সীমান্ত এলাকা বা সীমানা পুনর্নির্ধারণের কারণে ওয়ার্ড বা কেন্দ্রের নম্বর পরিবর্তন হলেও সংশ্লিষ্ট এলাকায় অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও জানানো হয়, প্রাথমিক পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো নথি জমা দিতে হবে না। তবে পরবর্তী পর্যায়ে নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) প্রয়োজন মনে করলে কমিশন স্বীকৃত ১১টি নথির মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি স্পষ্ট করা হয়েছে, আধার কার্ড কেবল পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য, নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে নয়।

বর্তমানে ত্রিপুরার ৬০টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট প্রায় ২৮.৯৭ লক্ষ ভোটার রয়েছেন। এর মধ্যে প্রায় ১৪.৫২ লক্ষ পুরুষ এবং ১৪.৪৫ লক্ষ নারী ভোটার। রাজ্যের ৩,৩৫৬টি ভোটকেন্দ্রে এই বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন কর্মসূচি পরিচালিত হবে বলে নির্বাচন দপ্তর জানিয়েছে।

You may also like

Leave a Comment