Home Uncategorizedসক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রদ্যোত কিশোরের, মানুষের সঙ্গে থাকার বার্তা

সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত প্রদ্যোত কিশোরের, মানুষের সঙ্গে থাকার বার্তা

by Debasish
0 comments 5 views

আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: সক্রিয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিলেন তিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাক্তন দলীয় প্রধান প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা। তবে রাজনীতি থেকে পুরোপুরি দূরে সরে যাওয়ার কথা বলেননি তিনি। বরং দলীয় পদে না থাকলে মানুষের পাশে থেকে আরও স্বাধীনভাবে তাঁদের সমস্যা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারবেন বলে জানিয়েছেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রদ্যোত কিশোর সমসাময়িক রাজনীতিতে আদর্শ ও নীতির তুলনায় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সিপিআই(এম)-এর মধ্যে এখনও কিছুটা আদর্শ, শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক নীতির চর্চা রয়েছে। একইসঙ্গে কংগ্রেস ও বিজেপি নিয়েও তিনি সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন। এগুলি তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মূল্যায়ন বলেই ভিডিও বার্তায় উঠে এসেছে।

রাজনৈতিক দলবদল নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বা কেন্দ্রে ক্ষমতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কিছু নেতা দল পরিবর্তন করেন বলেও মন্তব্য করেন প্রদ্যোত। বিজেপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত নেতাদের প্রসঙ্গেও তিনি একই ধরনের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

নিজের প্রতিষ্ঠিত দল তিপরা মথা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রদ্যোত কিশোর। দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ তুলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন। ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল বা টিটিএএডিসি-তে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, পরিবর্তন আনার জন্য তিনি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তা প্রত্যাশিত ফল দেয়নি।

তাঁর বক্তব্যে নিজের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি নিয়েও হতাশার সুর শোনা যায়। তিপরা মথার মুখ হিসেবে তাঁর ভাবমূর্তির সঙ্গে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডকে অনেকে যুক্ত করছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ত্রিপুরার যুবসমাজের হতাশা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রদ্যোত কিশোর। তাঁর মতে, গুয়াহাটি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও দিল্লির মতো শহরগুলির অগ্রগতি দেখে রাজ্যের তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার ও বিরোধী—উভয় পক্ষই কখনও কখনও এই অসন্তোষকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো নিয়েও ওঠা বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন তিনি। প্রদ্যোতের বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানানো সৌজন্যের বিষয়। একইভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে শুভেচ্ছা জানানোর পরও তাঁকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

প্রদ্যোত কিশোর বলেন, শিক্ষা, আদিবাসী অধিকার, স্বাস্থ্য পরিষেবা, রাস্তা ও বিদ্যুতের মতো মৌলিক বিষয়গুলিতে সরকার ও বিরোধী পক্ষের একসঙ্গে কাজ করা উচিত। মানুষের সমস্যাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করে এই বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রদ্যোত। ভিলেজ কমিটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পর আগামী মাসে তিপরা মথার প্লেনারি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি। ওই অধিবেশনেই দলের ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে।

টিপ্রাসা অ্যাকর্ড বাস্তবায়ন নিয়েও তিনি সরব রয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি ও কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনায় এই চুক্তির বাস্তবায়নকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরার কথাও উঠে এসেছে।

প্রদ্যোত কিশোর স্পষ্ট করে বলেন, “আমি ত্রিপুরায় থাকব এবং মানুষের পাশে দাঁড়াব।” তাঁর মতে, কোনও রাজনৈতিক পদে থাকলে অনেক সময় দলীয় স্বার্থ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই পদ ছেড়ে দিলে রাজনৈতিক নেতাদের ভুল বা অন্যায়ের বিরুদ্ধেও তিনি আরও স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারবেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে রাজনীতিতে আসেননি। কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকার সময় ব্রু শরণার্থী বসতি, ডম্বুর, মাধববাড়ি এবং আগরতলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সমস্যাগুলি কাছ থেকে দেখেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের রাজনৈতিক পরিচয় প্রসঙ্গে প্রদ্যোত বলেন, “তিপরা মথা আমার ক্ষমতার উৎস নয়।” মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ‘বুবাগ্রা’ হিসেবেই তিনি থাকতে চান বলে জানান।

You may also like

Leave a Comment