সাবরুম, ৮ অক্টোবর: প্রতিশ্রুতি মিলেছিল, কিন্তু হাতে আসেনি বকেয়া মজুরি। শেষ পর্যন্ত ক্ষোভে জাতীয় সড়কে বসে পড়লেন শ্রমিকরা। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সাবরুম-আগরতলা জাতীয় সড়কের কলাছড়া এলাকায় শ্রমিকদের অবরোধকে কেন্দ্র করে ব্যাহত হয় যান চলাচল। দুর্ভোগে পড়েন দূরপাল্লার যাত্রী থেকে শুরু করে স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কলাছড়া এলাকায় ওএনজিসির কাজের সঙ্গে যুক্ত দেবী কোম্পানির কাছে তাঁদের কয়েক মাসের মজুরি বকেয়া রয়েছে। শুধু পাওনা টাকা আটকে রাখাই নয়, নির্ধারিত পারিশ্রমিক কমিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ তুলেছেন আন্দোলনকারীরা।
শ্রমিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি বিএমএস সংগঠনের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। এর আগে কোম্পানি ও বিএমএসের পক্ষ থেকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া মজুরি পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে ৮ অক্টোবর হয়ে গেলেও টাকা হাতে না পাওয়ায় ক্ষোভ চরমে ওঠে।
এরপরই বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা নাগাদ শ্রমিকরা জাতীয় সড়কে অবস্থান শুরু করেন। তাঁদের দাবি, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে পাওনা মজুরি মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়েই তাঁরা রাস্তায় নেমেছেন।
আন্দোলনকারীদের আরও অভিযোগ, বিএমএসের নেতৃত্বে থাকা সঞ্জয় দেবনাথের পক্ষ থেকেও একাধিকবার টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাস কার্যকর না হওয়ায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ আরও বাড়ে।
অবরোধের জেরে জাতীয় সড়কের দুই দিকে যানবাহনের গতি থমকে যায়। সমস্যায় পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা। দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে থাকায় এলাকায় তৈরি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
শ্রমিকদের বক্তব্য, তাঁরা কাজের বিনিময়ে প্রাপ্য মজুরি চাইছেন। দ্রুত সমস্ত বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং নির্ধারিত হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার ব্যবস্থা না করা হলে আগামী দিনে আন্দোলন আরও তীব্র হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তাঁরা।
বকেয়া মজুরি ঘিরে শ্রমিক অসন্তোষ এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন আন্দোলনকারী শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ।