আগরতলা, ২২ সেপ্টেম্বর: গ্রামীণ মানুষের কাছে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দিতে ত্রিপুরায় শুরু হতে চলেছে নতুন উদ্যোগ ‘ডিজিটাল অন্ত্যোদয় যাত্রা’। এই উদ্যোগের আওতায় গ্রামাঞ্চলে গড়ে তোলা হবে ‘ডিজিটাল এআই মা সেবা কেন্দ্র’। প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিষেবা কেন্দ্রগুলির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি ও ডিজিটাল পরিষেবা গ্রহণে সহায়তা করা হবে।
আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টায় ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের প্রাঙ্গণে এই উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। অনুষ্ঠানে উল্লাস কুলকার্নি উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশিষ্ট অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মালয় পিট।
উদ্যোক্তাদের মতে, ডিজিটাল প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করে তোলাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকার যেসব মানুষ স্বাস্থ্য পরিষেবা কিংবা বিভিন্ন সরকারি ডিজিটাল পরিষেবা পেতে সমস্যার সম্মুখীন হন, তাঁদের কাছে পরিষেবাগুলি পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘ডিজিটাল এআই মা সেবা কেন্দ্র’-এ মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ থাকবে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রেসক্রিপশন হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে পাওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে। পাশাপাশি আয়ুষ্মান ভারত, ই-শ্রম এবং অন্যান্য ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেও সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করা হবে।
এই কেন্দ্রগুলি পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত স্থানীয় মহিলাদের যুক্ত করা হবে। তাঁরা এলাকার বাসিন্দাদের ডিজিটাল পরিষেবা ব্যবহারে সহায়তা করবেন এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য ও সরকারি পরিষেবার সঙ্গে তাঁদের সংযোগ স্থাপনে সহযোগিতা করবেন।
উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধুবন, রানীখামার এলাকায় এই সেবা কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রটিতে এসে পরিষেবাগুলি গ্রহণ করার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।
‘পরিচয়ের আগে মানুষ, প্রচারের আগে সেবা’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ‘ডিজিটাল অন্ত্যোদয় যাত্রা’র মাধ্যমে প্রযুক্তি ও জনসেবার মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।