নয়াদিল্লি, ৮ অক্টোবর: কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও ব্যবসাবান্ধব করার লক্ষ্যে আজ নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে বসছে ৫৭তম জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পণ্য ও পরিষেবা কর ব্যবস্থার একাধিক প্রশাসনিক ও কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হতে পারে।
সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল লক্ষ্য জিএসটি সংক্রান্ত নিয়ম মানার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের সময়, খরচ ও কাগজপত্রের বোঝা কমানো। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য কর ব্যবস্থাকে আরও সরল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
জিএসটি ব্যবস্থার পরবর্তী পর্যায়ের সংস্কারের জন্য কেন্দ্রের পক্ষ থেকে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে সামনে রাখা হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে প্রক্রিয়াগত ও কাঠামোগত পরিবর্তন, জীবনযাপন ও ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে সহজীকরণ, পরিষেবা রপ্তানিকে আরও সুবিধাজনক করা এবং ই-কমার্স সংক্রান্ত ব্যবস্থার সংস্কার।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে অন্যতম হতে পারে ক্রেতা ও বিক্রেতার চালান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা। এর ফলে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বা আইটিসি দাবি করার ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাগজপত্র ও আনুষঙ্গিক কাজ অনেকটাই কমতে পারে।
ক্ষুদ্র করদাতাদের ক্ষেত্রেও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের প্রস্তাব রয়েছে। তাঁদের রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা কমানো এবং বিভিন্ন রাজ্যে ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে একাধিক জিএসটি নিবন্ধনের প্রয়োজনীয়তা কমানোর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর ফলে ছোট ব্যবসাগুলির প্রশাসনিক ব্যয় ও নিয়মকানুন মেনে চলার চাপ কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জিএসটি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আরও কার্যকর করা এবং ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের প্রবাহ মসৃণ করার বিষয়টিও বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থার মাধ্যমে কর প্রশাসনের জটিলতা কমিয়ে দ্রুত পরিষেবা নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত, জিএসটি কাউন্সিলের ৫৬তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের সেপ্টেম্বরে। সেই বৈঠকে সাধারণ মানুষ, শ্রমনির্ভর শিল্প, কৃষক ও কৃষিক্ষেত্র, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিকে অগ্রাধিকার দিয়ে করের হার যৌক্তিকীকরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
এবারের বৈঠকে তাই শুধু করের হার নয়, গোটা জিএসটি ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও দক্ষ করে তোলার দিকেই নজর থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসায়ী ও পরিষেবা খাতের করদাতাদের জন্য প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলি বাস্তবায়িত হলে জিএসটি ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য প্রশাসনিক পরিবর্তন আসতে পারে।