আগরতলা, ২৭ সেপ্টেম্বর : আগামীকাল, সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়া অটোনোমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (TTAADC)-এর ভিলেজ কমিটি নির্বাচন। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। এবারের নির্বাচনে প্রায় ৬.৬৫ লক্ষ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৪,৫৯৭টি আসনের মধ্যে ২,৯৫০টি আসনে আগামীকাল ভোটগ্রহণ হবে। ইতিমধ্যেই ১,৬৪৪টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলের কোনও প্রার্থী মনোনয়ন না দেওয়ায় ৩টি আসন শূন্য রয়েছে। ভোটের ময়দানে রয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ৮,১৭৬ জন প্রার্থী।
প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় রাজ্যের চিহ্নিত ১,৫৫০টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১,০৯৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। ভোটার ও ভোটকর্মীদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন আসনের ব্যালট পেপারে সাদা, হালকা গোলাপি, হালকা সবুজ ও হালকা নীল—এই চার রং ব্যবহার করা হচ্ছে।
নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখতে চাইছে না প্রশাসন। রাজ্যজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে ৭৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। পাশাপাশি ত্রিপুরা পুলিশ ও TSR-এর প্রায় ৮,৯৭৭ জন নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নজরে রাখতে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার ১,৫০০-র বেশি সিনিয়র আধিকারিকও দায়িত্বে রয়েছেন। অতিসংবেদনশীল ভোটকেন্দ্রগুলিতে থাকছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৭,৪৫৮ জন ভোটকর্মী, মোট ১,২৪৩টি দলে ভাগ করে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রবিবার সকাল থেকেই ভোটকর্মীরা নির্বাচনী সামগ্রী নিয়ে নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। কমিশনের দাবি, অধিকাংশ দল ইতিমধ্যেই নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে।
সোমবার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ব্যালট বাক্সগুলি সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের দফতরের নির্ধারিত রিসিভিং সেন্টারে নিয়ে আসা হবে। ব্যালট পেপারের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ হওয়ায় ভোটকর্মীদের ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারদের সঙ্গেও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে একাধিক সমন্বয় বৈঠক ও প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে গণনাকেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে। গণনার কাজে নিযুক্ত সুপারভাইজার ও সহকারীদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের কাজও চলছে।
নির্বাচনের আগে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সমস্ত যোগ্য ভোটারকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।