পাঁচজন গুরুতর, টুর্নামেন্ট কমিটির কর্ণধারসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা
মধুপুর, ২১ আগস্ট: ফুটবল টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে মিয়াপাড়া স্কুল মাঠে সংঘর্ষের ঘটনায় ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত শফিকুল ইসলাম, আকাশ মিয়া, মাসুদ, শাকিব ও সাফায়েত বর্তমানে হাঁপানিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মতিনগর প্লে সেন্টারের পক্ষ থেকে হরিলাল দেব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের কমিটির কর্ণধারসহ মিয়াপাড়া এলাকার ১১ জনের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ আগস্ট থেকে মিয়াপাড়া স্কুল মাঠে হরিলাল দেব স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। মিয়াপাড়া প্লে সেন্টারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে বিভিন্ন এলাকার দল অংশগ্রহণ করে। বৃহস্পতিবার কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হয় মিয়াপাড়া প্লে সেন্টার ও মতিনগর প্লে সেন্টার।
অভিযোগ, খেলা চলাকালীন দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে সামান্য বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক হয়। পরে বিষয়টি মিটমাটও হয়ে যায়। কিন্তু এরপরই মিয়াপাড়া এলাকার এক যুবক মাঠে ঢুকে মতিনগরের এক খেলোয়াড়কে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর কয়েকজন মহিলা ও পুরুষ মাঠে ঢুকে লাঠি, বাঁশ ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মতিনগর দলের খেলোয়াড় ও দর্শকদের ওপর হামলা চালান।
অভিযোগকারীদের দাবি, টুর্নামেন্ট কমিটির কর্ণধার দুলাল মিয়াও ঘটনাস্থলে এসে হামলায় অংশ নেন। হামলায় মতিনগর এলাকার মোট ১১ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে রুহেল মিয়া, দুলাল মিয়া, জুটন ভূঁইয়া, রমজান মিয়া (গোলকিপার), আরিফুল ইসলাম ও লিটন ভূঁইয়ার নামও জানা গেছে।
সংঘর্ষের সময় মাঠে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মধুপুর থানার পুলিশকে হিমশিম খেতে হয় বলে অভিযোগ। একপর্যায়ে মতিনগর এলাকার কয়েকজন যুবক সেখান থেকে বেরিয়ে মধুপুর থানায় আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে মতিনগর প্লে সেন্টারের পক্ষ থেকে দুলাল মিয়া, মামুন মিয়া, শাহজালাল, কামরুল, অলিমিয়া, ওয়ারিশ মিয়া, শিশু মিয়া, আলী মিয়া, জাহাঙ্গীর মিয়া, ইয়াসিন মিয়া ও তপন মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে মতিনগর প্লে সেন্টারের খেলোয়াড় ও স্থানীয়রা।
স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের বক্তব্য, খেলাধুলার মাঠে প্রতিযোগিতা ও সৌহার্দ্যের পরিবেশ বজায় থাকার কথা। সেখানে একটি ম্যাচকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।