Home দেশদুর্নীতি মামলায় পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের, চাপে সিপিএম

দুর্নীতি মামলায় পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে এফআইআরের নির্দেশ কেরল হাই কোর্টের, চাপে সিপিএম

by Debasish
0 comments 1 views

কন্যার সংস্থাকে খনি সংস্থার ২.৭৮ কোটি টাকা প্রদান ঘিরে প্রশ্ন, প্রাথমিক অনুসন্ধানের বদলে সরাসরি মামলা রুজুর নির্দেশ আদালতের

তিরুঅনন্তপুরম, ৯ অক্টোবর: কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমের শীর্ষ নেতা পিনারাই বিজয়নের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে আইনি চাপ আরও বাড়ল। কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) এবং বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নের সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনসকে কেন্দ্র করে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছে কেরল হাই কোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি এ বদরুদ্দিনের এই নির্দেশকে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

মামলার কেন্দ্রে রয়েছে সিএমআরএল-এর কাছ থেকে বীণার সংস্থার প্রায় ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা পাওয়ার বিষয়টি। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জমা দেওয়া নথি পর্যালোচনা করে আদালত ওই আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি পরামর্শ পরিষেবা দেওয়ার কথা থাকলেও তার বিনিময়ে যথাযথ পরিষেবা না দিয়েই এক্সালজিক সলিউশনসকে ওই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। যদিও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।

প্রাথমিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিল কেরল সরকার। কিন্তু আদালত সেই অবস্থান গ্রহণ না করে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-সহ প্রাসঙ্গিক ধারায় সরাসরি এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এবার অভিযোগের তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথ খুলল।

ইডির রিপোর্টে শুধু পিনারাই বিজয়ন নন, তাঁর কন্যা বীণা এবং বীণার স্বামী তথা সিপিএম নেতা মহম্মদ রিয়াজের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। রিয়াজ কেরলের পূর্ববর্তী বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট সরকারের পূর্তমন্ত্রী ছিলেন। ইডির অভিযোগ, বিজয়ন মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর কন্যার সংস্থার মাধ্যমে সিএমআরএল-এর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছিল এবং পরে ওই অর্থের একটি অংশ দুবাইয়ে স্থানান্তরিত করা হয়। এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ।

এর আগে গত ২৭ মে তিরুঅনন্তপুরমে বিজয়নের বাসভবন এবং কান্নুরে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের পর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিরোধী নেতাদের নিশানা করার অভিযোগ তুলেছিলেন বিজয়ন। সিপিএমও এই ঘটনাকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছিল।

উল্লেখ্য, সিএমআরএল-এক্সালজিক আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সামনে আসার পর থেকেই কেরলের রাজনীতিতে বিতর্ক চলছে। এবার হাই কোর্টের সরাসরি এফআইআর দায়েরের নির্দেশে সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে আদালতের নির্দেশের অর্থ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়; তদন্তের পরই নির্ধারিত হবে এই মামলায় কারও বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায় কি না।

রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই মামলায় পরবর্তী তদন্ত কোন দিকে এগোয়, এখন সেদিকেই নজর কেরলের রাজনৈতিক মহলের।

You may also like

Leave a Comment