Home বিদেশযুদ্ধকালীন যৌনহিংসাকে ‘গণহত্যা’ তকমা দিয়েছিলেন! গাঁধীর কর্মভূমির সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারক পেলেন শান্তির নোবেলযুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন নাটাল প্রদেশের ডারবান শহরের বাসিন্দা ৮৫ বছরের পিল্লাই।

যুদ্ধকালীন যৌনহিংসাকে ‘গণহত্যা’ তকমা দিয়েছিলেন! গাঁধীর কর্মভূমির সেই ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিচারক পেলেন শান্তির নোবেলযুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন নাটাল প্রদেশের ডারবান শহরের বাসিন্দা ৮৫ বছরের পিল্লাই।

by Debasish
0 comments 1 views

জনকন্ঠ ডিজিটাল ডেস্ক : ০৯ অক্টোবর : ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় বংশোদ্ভূত আইনজীবী নভানেথেম ‘নভি’ পিল্লাই। নরওয়ের নোবেল কমিটি শুক্রবার জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা এবং বিশ্বশান্তির প্রসারে অবদানের স্বীকৃতিতে তাঁকে শান্তি পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।

নোবেল পুরস্কার জয়ী হিসেবে নাম ঘোষণার পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিল্লাই বলেন, ‘‘আপনারা যদি আরও একটু বেশি হাততালি দেন, তবে আমি এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’’ প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পুরস্কার ভাগ করে নেওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছিলেন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে মাচাদো হোয়াইট হাউসে গিয়ে নিজের নোবেল মেডেলটি ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। মনে করা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গেই খোঁচা দিয়েছেন পিল্লাই। অন্য দিকে, ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছিলেন গত বছরের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ ও সশস্ত্র সংঘাত থামিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমিই নোবেশ শান্তি পুরস্কারের জন্য যোগ্যতম।’’

যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন নাটাল প্রদেশের ডারবান শহরের বাসিন্দা ৮৫ বছরের পিল্লাই। বর্ণবিদ্বেষের পরিবেশে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল পরিবারে জন্ম তাঁর। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে বৈষম্য ও বর্ণবিদ্বেষের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি। একদা তিনি বর্ণবিদ্বেষবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা তথা সে দেশের প্রয়াত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার আইনজীবীর ভূমিকাও পালন করেছেন।

ডারবানের বাসিন্দা পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রোয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে বিচারকের দায়িত্ব সামলেছেন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার হাইকমিশনার হিসেবেও কাজ করেছেন। মহাত্মা গাঁধীর কর্মভূমি নাটাল প্রদেশের নাটাল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পিল্লাই ১৯৬৭ সালে প্রথম মহিলা হিসেবে সেখানে একটি ল’ফার্ম প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনিই ছিলেন ওই প্রদেশের প্রথম মহিলা আইনজীবী। আমেরিকার হার্ভার্ড ল’স্কুলের প্রাক্তনী পিল্লাই ১৯৯৫-২০০৩ রোয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারক থাকাকালীন এক ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিলেন। ধর্ষণ ও যুদ্ধকালীন যৌনহিংসাকে ‘গণহত্যার শামিল’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইনের ইতিহাসে ওই রায় নারী অধিকার রক্ষায় সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত। মায়ানমারে গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতনের মামলারও বিচারক ছিলেন পিল্লাই।

You may also like

Leave a Comment