ধর্মনগর: তিন নাবালিকাকে কথিতভাবে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তর ত্রিপুরার আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার রাতে নাবালিকাদের নিয়ে যাওয়ার সময় এক যুবককে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। একইসঙ্গে, ঘটনায় অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মনগর মহিলা থানার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়দের একাংশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টা নাগাদ বাগবাসা এলাকা থেকে তিন নাবালিকাকে নিয়ে এক যুবক আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। এরপর তাঁরা সোহেল উদ্দিন নামে এক যুবককে আটক করে আনন্দবাজার নাকা পয়েন্টে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হাতে তুলে দেন বলে জানা গেছে।
পরবর্তীতে নাকা পয়েন্টের ইনচার্জ তিন নাবালিকা এবং আটক যুবককে ধর্মনগর মহিলা থানায় পাঠান বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে নাবালিকাদের কথিত পাচারের অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়েরের উদ্যোগ নেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে অভিযোগ, ধর্মনগর মহিলা থানায় অভিযোগ গ্রহণ নিয়ে গড়িমসি করা হয়। নাবালিকাদের বাড়ি বাগবাসা এলাকায় হওয়ায় সংশ্লিষ্ট থানায় অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে নাবালিকাদের বাগবাসা থানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়দের দাবি। এ ঘটনাতেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, নাবালিকাদের যদি আনন্দবাজারের রাজনগর এলাকায় আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত কোন থানার অধীনে হবে, তা নিয়ে স্পষ্টতা থাকা প্রয়োজন। শুধুমাত্র নাবালিকাদের বাড়ি অন্য এলাকায় হওয়ার কারণে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগও স্থানীয়দের একাংশের পক্ষ থেকে তোলা হয়েছে। তবে এই অভিযোগের কোনও সত্যতা এখনও প্রমাণিত হয়নি। একইভাবে, নাবালিকাদের সত্যিই পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না, কোথা থেকে কোথায় তাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং আটক যুবকের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
আটক যুবকের বিরুদ্ধেও অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে তাকে দোষী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য। পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি উঠেছে।
নাবালিকাদের নিরাপত্তা, কথিত পাচারের অভিযোগ এবং অভিযোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা—এই তিনটি বিষয় নিয়েই এখন নজর রয়েছে। সংশ্লিষ্ট পুলিশ প্রশাসন ঘটনার বিষয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কোন থানায় আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।