Home আগরতলাপুর নির্বাচনের আগে কংগ্রেস-সিপিআইএমকে নিশানা বিজেপির, আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল

পুর নির্বাচনের আগে কংগ্রেস-সিপিআইএমকে নিশানা বিজেপির, আগরতলায় ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল

by Debasish
0 comments 3 views

আগরতলা, ৩১ অক্টোবর: আসন্ন পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে সামনে রেখে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। বিরোধী জোটের বিরুদ্ধে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করার চেষ্টা এবং রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে কংগ্রেস, সিপিআইএম-সহ ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলিকে তীব্র আক্রমণ করল বিজেপি।

শনিবার আগরতলায় বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত ‘গণতন্ত্র বাঁচাও, অরাজকতা হটাও’ মিছিল ও সমাবেশে উপস্থিত থেকে বিরোধীদের বিরুদ্ধে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ মানিক সাহা এবং লোকসভা সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।

সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় হিংসা, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা শক্তি প্রয়োগের কোনও স্থান নেই। জনগণের রায় প্রকাশের একমাত্র মাধ্যম হলো ভোটাধিকার। ডঃ বি আর আম্বেদকরের নেতৃত্বে প্রণীত সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার, আইনের চোখে সমান অধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির প্রতি সম্মান বজায় রাখা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি।

বিরোধীদের নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, নির্বাচনে পরাজয়ের পর কংগ্রেস ও অন্যান্য বিরোধী দল সুপ্রিম কোর্ট এবং নির্বাচন কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এ ধরনের লাগাতার অভিযোগ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এদিন ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR)-এর পক্ষেও সওয়াল করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্ভুল এবং হালনাগাদ ভোটার তালিকা অত্যন্ত জরুরি। মৃত্যু, স্থানান্তর এবং কথিত অবৈধ অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি ভোটার তালিকা যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক স্বার্থে কংগ্রেস, সিপিআইএম এবং তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করেন। জাতীয় জনসংখ্যা নিবন্ধন (NPR) এবং জনগণনা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বিরোধিতা নিয়ে বিরোধীদের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করান তিনি। দিল্লির যন্তর মন্তরে বিরোধীদের বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে বিপ্লব দেবের অভিযোগ, ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে চললেও বিরোধী নেতারা রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন।

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাহুল গান্ধী এবং নেহরু-গান্ধী পরিবারকে নিয়েও ব্যক্তিগত আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন বিপ্লব দেব। পদবি ও জাতিভিত্তিক জনগণনা সংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরে কংগ্রেস নেতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর হুঁশিয়ারি, দেশকে অস্থিতিশীল করার যে কোনও প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। পাশাপাশি ত্রিপুরায় মাওবাদী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে জানান তিনি।

এদিনের সমাবেশে রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রণজিৎ সিংহ রায়, সুশান্ত চৌধুরী, রতনলাল নাথ এবং সুধাংশু দাস। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী প্রতিমা ভৌমিক, বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়, দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন দেবনাথ ও বিপিন দেববর্মা-সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব এবং কর্মী-সমর্থকরা।

আসন্ন ২১টি পুর ও নগর সংস্থার নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিরোধীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রচার আরও জোরদার করল বিজেপি। ফলে নির্বাচনের আগে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই যায়।

You may also like

Leave a Comment