Home আগরতলাউৎসবের মরশুমে পরিবেশে জল-শব্দ-বায়ুদূষণ পরিমাপে মাঠে ত্রিপুরা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ

উৎসবের মরশুমে পরিবেশে জল-শব্দ-বায়ুদূষণ পরিমাপে মাঠে ত্রিপুরা দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ

by Debasish
0 comments 2 views

আগরতলা, ২৪ অক্টোবর: উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরিবেশের উপর তার প্রভাব কতটা পড়ছে, তা খতিয়ে দেখতে সক্রিয় হয়েছে ত্রিপুরা রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ। দুর্গাপুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের পর জলাশয়ের জলের গুণমান পরীক্ষা থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলিতে শব্দ এবং বায়ুদূষণের মাত্রা নির্ধারণ— একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের নির্দেশিকা অনুসরণ করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পর্ষদের আধিকারিক ডক্টর রাজীব পাল জানিয়েছেন, দুর্গাপুজো, লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজোর সময় পরিবেশের উপর সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করতে ধারাবাহিক তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিমা বিসর্জনের আগে ও পরে জলাশয় থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হচ্ছে। শুক্রবার দুর্গাপুজোর কার্নিভাল শেষ হওয়ার পর শনিবার নিরঞ্জনস্থল থেকে জলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। বিসর্জনের পরবর্তী সাত থেকে আট দিন ধরেও পর্যবেক্ষণ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সংগৃহীত নমুনার পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হবে বিস্তারিত প্রতিবেদন। সেই রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ এবং প্রয়োজনীয় কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন ডক্টর রাজীব পাল। এর মাধ্যমে প্রতিমা নিরঞ্জনের ফলে জলাশয়ের গুণমানে কোনও পরিবর্তন ঘটছে কি না, তা বৈজ্ঞানিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে, উৎসবের সময় লাউডস্পিকার, মাইক ও অন্যান্য শব্দের কারণে পরিবেশে কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, তা নির্ধারণেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পর্ষদের তরফে গণেশপুজো থেকে দুর্গাপুজো পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে শব্দের তীব্রতা পরিমাপ করা হয়েছে। দিন ও রাতের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নীরব এলাকা, আবাসিক অঞ্চল এবং বাণিজ্যিক এলাকার শব্দের মাত্রাও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।

এবার নজর রয়েছে লক্ষ্মীপুজো ও দীপাবলির উপর। উৎসবের দিনগুলিতে শব্দের তীব্রতা পরিমাপের পাশাপাশি বায়ুর গুণমানও পরীক্ষা করা হবে। আগরতলার পাশাপাশি উদয়পুরের জোনাল কার্যালয়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে এই পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

উৎসবের মরশুমে আতশবাজি, অতিরিক্ত শব্দ এবং প্রতিমা নিরঞ্জনের কারণে পরিবেশের উপর সম্ভাব্য চাপ তৈরি হতে পারে। সেই প্রভাব সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করাই পর্ষদের মূল লক্ষ্য।

You may also like

Leave a Comment