Table of Contents
আগরতলা, ২৪ অক্টোবর: ত্রিপুরার শাসকদলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আনলেন কংগ্রেস বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর দাবি, দলের অভ্যন্তরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা মানসিক চাপে রয়েছেন। শাসকদলের কয়েকটি গোষ্ঠী মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে রাজ্যের সম্পদ লুট করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগগুলির বিষয়ে শাসকদলের বক্তব্য এখানে পাওয়া যায়নি।
শনিবার আগরতলায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকা এবং ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে সরব হন সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান শাসনকালে সংবাদমাধ্যম, বিচারব্যবস্থা, প্রশাসন ও আইনসভার স্বাধীন কার্যক্রম নানা চাপের মুখে পড়ছে। গণতন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে মানবাধিকার রক্ষা, বিরোধী মতের মর্যাদা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভোটাধিকার রক্ষায় দিল্লিতে সমাবেশের প্রস্তুতি
নির্বাচনী ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনার দাবিতে কংগ্রেস এবং ইন্ডিয়া জোটের আন্দোলনের কথাও তুলে ধরেন এই কংগ্রেস বিধায়ক। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে প্রস্তাবিত সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন বলে জানান তিনি।
সুদীপ রায় বর্মণের বক্তব্য অনুযায়ী, যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার সংস্কার এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। এনআরসি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করা, প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়া যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ ও সুরক্ষা-সংক্রান্ত আইন বাতিলের দাবিও তোলেন তিনি। পাশাপাশি, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, ভারতের প্রধান বিচারপতি ও বিরোধী দলনেতাকে নিয়ে গঠিত পূর্ববর্তী নির্বাচনী ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন
রাজ্যের শাসনব্যবস্থা প্রসঙ্গে সুদীপ রায় বর্মণের অভিযোগ, বিজেপির অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীগুলির মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়ছে। তাঁর দাবি, দলেরই একটি অংশ মুখ্যমন্ত্রীকে পদ থেকে সরানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যের সম্পদ লুটের সঙ্গে যুক্ত বলে তাঁর দাবি করা গোষ্ঠীগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করতে মুখ্যমন্ত্রী কার্যকর ভূমিকা নিতে পারছেন না। পুলিশ ও প্রশাসনের ওপর মুখ্যমন্ত্রীর নিয়ন্ত্রণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নির্বাচনের আগে সরকারি অর্থ ও পরিকাঠামো রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন ক্লাবকে বিজেপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে এবং বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপেক্ষা করা হচ্ছে।
নিজের বিধানসভা কেন্দ্রের রাধানগর, পুণ্য সংঘ, ভ্রাতৃ সংঘ, নিউজ ক্লাব, নেতাজি ক্লাব, লক্ষ্মণ ক্লাব ও শ্যামলীবাজার ক্লাবের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলির অনুষ্ঠানে বিরোধী জনপ্রতিনিধিদের যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কিছু ক্লাবের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং জমি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই কিংবা সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
শাসকদলের কর্মীদের উদ্দেশে বার্তা
বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশেও সতর্কবার্তা দেন সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর বক্তব্য, ব্যক্তিগত মুনাফা ও লুটপাটের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের স্বার্থে যেন দলের কর্মীরা ব্যবহৃত না হন। রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আগামী দিনে বড় পরিবর্তন ঘটতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
সাংবাদিকতার নামে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে কড়া অবস্থান
সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে সরব হন কংগ্রেস বিধায়ক। তিনি স্পষ্ট জানান, এ ধরনের ব্যক্তিদের জন্য কংগ্রেসের দরজা খোলা থাকবে না। সাংবাদিকতার নামে গোলমাল সৃষ্টিকারী, প্রতারণা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দলে জায়গা দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে আইনি পথে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান।