আগরতলা, ১৬ সেপ্টেম্বর : সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক্স্বাধীনতা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুললেন বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের সমালোচনা বা জনস্বার্থের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবাদমাধ্যম ও বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমের ওপর নানা ধরনের চাপ তৈরি করা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এক বিবৃতিতে জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সংবিধান নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অধিকার দিয়েছে। রাস্তা, বিদ্যুৎ, রেশন, কর্মসংস্থানসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন তোলার অধিকার রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, সরকারের সমালোচনামূলক সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংবাদপত্র, ইউটিউব চ্যানেল ও কেবল নেটওয়ার্ককে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর দাবি, কিছু সংবাদমাধ্যমের ওপর প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
সরকারি বিজ্ঞাপন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁর অভিযোগ, সরকারের পক্ষে প্রচার চালানো সংবাদমাধ্যমকে সরকারি অর্থ ও বিজ্ঞাপনের সুবিধা দেওয়া হলেও স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশনকারী প্রতিষ্ঠানগুলির ক্ষেত্রে বৈষম্য করা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে এলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপ তৈরি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরকারের কাছে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা করা শুধু সাংবাদিকদের বিষয় নয়, এটি গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তিনি সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও বাক্স্বাধীনতার পক্ষে থাকা সকলকে এ ধরনের অভিযোগের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।