Home আগরতলা৩৯ বছরের শিক্ষাসেবায় আজীবন সম্মাননা অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে

৩৯ বছরের শিক্ষাসেবায় আজীবন সম্মাননা অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে

by Debasish
0 comments 1 views

শিক্ষাকে শুধু জ্ঞানার্জনের মাধ্যম নয়, চরিত্র গঠন ও সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে দেখার আহ্বান

আগরতলা, ৫ সেপ্টেম্বর: দীর্ঘ প্রায় ৩৯ বছরের শিক্ষাক্ষেত্রে নিষ্ঠা ও অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং স্কুল অব সায়েন্স-এর অধ্যক্ষ অভিজিৎ ভট্টাচার্যকে প্রদান করা হল মর্যাদাপূর্ণ ‘লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’

শনিবার কলকাতার নলিনী গুহ অডিটোরিয়ামে শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। ‘বঙ্গ-ত্রিপুরা শিক্ষা গৌরব সম্মান ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে বঙ্গ-ত্রিপুরা মৈত্রী মঞ্চ, দেশ ভাবনা ও ভিশন অব বেঙ্গল-এর উদ্যোগে এবং স্বামী বিবেকানন্দ বিদ্যামন্দিরের সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী, প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার অমিত ভদ্র, সাংবাদিক দেবাশিস দত্ত-সহ শিক্ষা জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

সম্মাননা গ্রহণ করে অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, এই স্বীকৃতি তাঁর কাছে একইসঙ্গে সম্মানের এবং বিশেষ সৌভাগ্যের। শিক্ষক দিবস এবং প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ও বিশিষ্ট দার্শনিক ড. সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণনের জন্মবার্ষিকীর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দেশ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তাঁর বক্তব্য, শিক্ষা শুধুমাত্র জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি চরিত্র গঠন, মানুষের ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক পরিবর্তনের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার। সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে মানসম্মত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি নিরক্ষরতা দূর করতে শিক্ষক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও সাধারণ মানুষকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্য পূরণে শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে শিক্ষা পৌঁছানো ছাড়া উন্নত ভারত গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দেশ গঠনে ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস’-এর আদর্শের উপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

ত্রিপুরার শিক্ষাক্ষেত্রের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন অভিজিৎ ভট্টাচার্য। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি ত্রিপুরাকে সম্পূর্ণ সাক্ষর রাজ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সরকারের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিভিন্ন সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পাশাপাশি বাংলার মানুষকে ত্রিপুরা ভ্রমণের আহ্বান জানিয়ে তিনি রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক স্থাপত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কথা বলেন। এ ক্ষেত্রে ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির, ঊনকোটি, নীরমহল, জম্পুই পাহাড়, ছবিমুড়া ও উজ্জয়ন্ত প্রাসাদের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য’ কবিতার অনুপ্রেরণামূলক ভাবধারার উল্লেখ করে স্বাধীনতা, জ্ঞান, যুক্তিবোধ ও মানবিক মর্যাদার চিরন্তন মূল্যবোধের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রায় চার দশক ধরে শিক্ষা, ছাত্রছাত্রীদের পথনির্দেশ এবং তাঁদের ক্ষমতায়নে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অভিজিৎ ভট্টাচার্যের হাতে এই আজীবন সম্মাননা তুলে দেওয়াকে শিক্ষা মহলের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

You may also like

Leave a Comment