কুমারঘাট, ৭ নভেম্বর: দীপাবলির আগে অবৈধ সামগ্রী পাচার ও পরিবহণের বিরুদ্ধে অভিযানে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল কুমারঘাট থানার পুলিশ। পৃথক দুটি অভিযানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বার্মিজ সিগারেট এবং অবৈধ বাজি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় দুটি যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে পাওয়া খবরের ভিত্তিতে ওসি সঞ্জয় দাসের নেতৃত্বে ৯১ মাইল এলাকায় নাকা চেকিং শুরু হয়। সেই সময় AS-01-EH-9983 নম্বরের একটি ওয়াগনআর গাড়িকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করে পুলিশ। গাড়িতে তল্লাশি চালাতেই বেরিয়ে আসে ২২ কার্টন বার্মিজ সিগারেট। উদ্ধার হওয়া সিগারেটের মোট পরিমাণ ২ লক্ষ ১২ হাজার ২০০টি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। পরবর্তী সময়ে সিগারেটের চালানসহ গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়। গাড়ির চালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক ব্যক্তিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, একই রাতে সায়দাবাড়ি এলাকায় মোবাইল পেট্রোলিং চলাকালীন একটি ইলেকট্রিক অটোরিকশাকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বিভিন্ন ধরনের ১৭ প্যাকেট বাজি উদ্ধার হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কুমারঘাট থেকে সোনাইমুড়ির দিকে বাজিগুলি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনায় অটোরিকশার চালককে আটক করার পাশাপাশি বাজি ও গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
দুটি ঘটনায় মোট তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কুমারঘাট থানার ওসি সঞ্জয় দাস জানান, উৎসবের মরশুমে অবৈধ ও জননিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক সামগ্রীর পরিবহণ রুখতে পুলিশের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাকা চেকিং, যানবাহনে তল্লাশি এবং মোবাইল পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
বিশেষ করে দীপাবলির আগে নিষিদ্ধ ও অনিরাপদ বাজির অবাধ পরিবহণ রুখতে এই অভিযানকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। পরিবেশ দূষণ এবং সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে আগামী দিনেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।