Home কৃষিত্রিপুরার ২০৪টি কৃষি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৪৬১.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ: কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ

ত্রিপুরার ২০৪টি কৃষি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৪৬১.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ: কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ

by Debasish
0 comments 0 views

আগরতলা, ১২ অক্টোবর: রাজ্যের কৃষকদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাইয়ে দেওয়া এবং কৃষি বিপণন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ত্রিপুরার ২০৪টি কৃষি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নে ৪৬১.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। রবিবার খোয়াই ও কল্যাণপুরে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের উদ্বোধন এবং নতুন প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রী রতনলাল নাথ।

অনুষ্ঠানে খোয়াই জেলায় কৃষি, উদ্যান পালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দফতরের উপ-অধিকর্তার কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী। পাশাপাশি বৃন্দাবন ঘাট বাজারে নবনির্মিত দ্বিতল গ্রামীণ বাজারেরও উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই বাজার চালু হওয়ায় কৃষক, ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উন্নত বিপণন পরিকাঠামোর সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে রাজ্যে মোট ৫৫৪টি কৃষি বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ২০৪টি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ৮৭টি বাজারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ১১৭টি বাজারে কাজ চলছে। এই প্রকল্পগুলির আওতায় বাজারের শেড, দোকানঘর ও শৌচাগার নির্মাণের পাশাপাশি পানীয় জল এবং নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হচ্ছে।

রতনলাল নাথ জানান, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ পর্যন্ত রাজ্যের ২০৪টি কৃষি বাজারের উন্নয়নে ৪৬১.৮৩ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে মাত্র ৭১টি বাজারের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ২০.২৬ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে মন্ত্রী বলেন, কৃষি ও উদ্যান পালন ক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধি, বৃক্ষরোপণভিত্তিক ফসলের চাষ সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এর মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে রাজ্যের স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি এবং বাইরের উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা চলছে।

কৃষকদের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজে পৌঁছে দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রতিটি জেলায় কৃষি, উদ্যান পালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দফতরের উপ-অধিকর্তার কার্যালয় রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি ব্লকে কৃষি মহকুমা কার্যালয় স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে রাজ্যে ৪৭টি কৃষি মহকুমা কার্যালয় এবং মহকুমা স্তরে উদ্যান পালন ও মৃত্তিকা সংরক্ষণ দফতরের ৯টি কার্যালয় রয়েছে।

কৃষকদের সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেজন্য প্রত্যেক কৃষককে একটি করে স্বতন্ত্র ‘ফার্মার আইডি’ বা কৃষক পরিচয়পত্র দেওয়ার কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রাকৃতিক কৃষির প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় ৫,৫৫০ হেক্টর জমিতে ১৩,৮৭৫ জন কৃষক প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের মধ্যে আরও ১১,২৫০ হেক্টর জমিকে প্রাকৃতিক কৃষির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ত্রিপুরার জৈব কৃষিপণ্য দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করে মোট ১৭.২ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রতনলাল নাথ। তাঁর দাবি, গত আট বছরে রাজ্যে ২৩৩.৬৩ কোটি টাকা ভর্তুকির মাধ্যমে ৫০,৩০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণ করা হয়েছে। তুলনায়, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে ২,৬০০টি কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণে ভর্তুকি দেওয়া হয়েছিল ২৮.৩৫ কোটি টাকা।

মন্ত্রী বলেন, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, বাজার পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, উন্নত কৃষি যন্ত্রপাতির ব্যবহার এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই রাজ্য সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। কৃষকদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি এবং রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিকে আরও মজবুত করতেই এই উদ্যোগগুলি গ্রহণ করা হয়েছে।

You may also like

Leave a Comment