Home আগরতলাচিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে রোগী পাঠানোর সংখ্যা ৮০ শতাংশ কমেছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে রোগী পাঠানোর সংখ্যা ৮০ শতাংশ কমেছে, দাবি মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার

by Debasish
0 comments 0 views

জেলাস্তরে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা সম্প্রসারণে জোর, গুরুতর হিমোফিলিয়া ‘এ’ রোগীদের জন্য চালু এমিসিজুমাব চিকিৎসা কর্মসূচি

আগরতলা, ১২ অক্টোবর: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং জেলাস্তরে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের ফলে চিকিৎসার জন্য ত্রিপুরার বাইরে রোগী পাঠানোর সংখ্যা প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে বলে দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। রবিবার, ১১ অক্টোবর, আগরতলা সরকারি ডেন্টাল কলেজ (এজিডিসি) ও আইজিএম কমপ্লেক্সের নার্সিং কলেজে গুরুতর হিমোফিলিয়া ‘এ’ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ‘এমিসিজুমাব ফর অল পার্সনস উইথ সিভিয়ার হিমোফিলিয়া এ ইন ত্রিপুরা’ কর্মসূচির সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই দাবি করেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত করার পাশাপাশি ট্রমা কেয়ার, হৃদরোগের চিকিৎসা এবং পুনর্বাসন পরিষেবা সম্প্রসারণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে রাজ্যের রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বহির্রাজ্যে যাওয়ার নির্ভরতা কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে গুরুতর হিমোফিলিয়া ‘এ’ আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সুযোগ বাড়াতে এমিসিজুমাব ওষুধের ব্যবহার নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। হিমোফিলিয়া ‘এ’ একটি জিনগত রক্তক্ষরণজনিত রোগ, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সমস্যা দেখা দেয়। এই কর্মসূচির অধীনে সংশ্লিষ্ট রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আগরতলার আইজিএম হাসপাতালকে নোডাল হাসপাতাল হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানিক সাহা বলেন, ভবিষ্যতে জেলাস্তরের হাসপাতালগুলিতেও এই চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে রোগীদের চিকিৎসার জন্য আগরতলা কিংবা অন্যত্র ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। বিশেষ করে দূরবর্তী ও প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা যাতে নিজেদের কাছাকাছি এলাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা পান, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, প্রায় সব জেলা হাসপাতালেই ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি স্থানে হৃদরোগের চিকিৎসার পরিকাঠামোও চালু হয়েছে। জেলা পর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ বাড়িয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পৃথক মা ও শিশু হাসপাতাল গড়ে তোলার কাজ চলছে। বিদ্যমান ডেন্টাল কলেজের পাশে নতুন ডেন্টাল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় নেশামুক্তি কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্রামগঞ্জে এই কেন্দ্র নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলেছে।

জনস্বাস্থ্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মানিক সাহা দাবি করেন, ধলাই জেলায় একসময় জলবাহিত রোগে মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগের কারণ ছিল, তবে বর্তমানে সেই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং এ ধরনের রোগে মৃত্যুর ঘটনা নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে। প্রত্যন্ত ও পরিষেবা-বঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতেও সরকার উদ্যোগী বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন রোগীদের জন্য স্তন ক্যানসার ও মুখগহ্বরের ক্যানসার-সহ কয়েকটি ক্যানসারের ক্ষেত্রে বিনামূল্যে টিকাকরণ-সংক্রান্ত উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকারের নবম পর্যায়ের ‘মাস্ক ক্যাম্পেন’ শীঘ্রই শুরু হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে, স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডা. দেবশ্রী দেববর্মা-সহ দপ্তরের অন্যান্য আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন।

You may also like

Leave a Comment