Home আগরতলাস্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জোর ত্রিপুরা সরকারের, রাজ্যে বসানো হয়েছে ৫১৫টি CCTV ও ৮১টি রেড-লাইট ক্যামেরা : মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জোর ত্রিপুরা সরকারের, রাজ্যে বসানো হয়েছে ৫১৫টি CCTV ও ৮১টি রেড-লাইট ক্যামেরা : মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহা

by Debasish
0 comments 15 views

বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা: প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, ANPR ও ই-চালানের মাধ্যমে ট্রাফিক আইন ভাঙার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা

আগরতলা, ৩১ আগস্ট: যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন রোধ এবং পথ দুর্ঘটনা কমাতে প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উপর জোর দিচ্ছে ত্রিপুরা সরকার। সোমবার বিধানসভায় এক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. মানিক সাহা জানান, রাজ্যে বর্তমানে প্রায় ৫১৫টি CCTV ক্যামেরা, ২২টি স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল এবং ৮১টি রেড-লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা রয়েছে।

বিজেপি বিধায়ক প্রমোদ রিয়াংয়ের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের শনাক্ত করতে স্পিড রাডার গান, ইন্টারসেপ্টর গাড়ি, অটোমেটেড নম্বর প্লেট রিকগনিশন (ANPR) ক্যামেরা এবং রেড-লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে জরিমানা আদায়ের জন্য ই-চালান মেশিন এবং QR কোড-ভিত্তিক ব্যবস্থাও চালু করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যের স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ৫১৫টি CCTV ক্যামেরা, ২২টি স্মার্ট ট্রাফিক সিগন্যাল, ৮১টি রেড-লাইট ভায়োলেশন ডিটেকশন ক্যামেরা, ৪৩টি ANPR ক্যামেরা, ৭৭টি ভেরিয়েবল মেসেজ ডিসপ্লে বোর্ড এবং ২৩৭টি GPS-ভিত্তিক ট্রাফিক ইউনিট রয়েছে।

আগরতলা শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও স্পিড চেকিং ডিভাইস বসানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, ত্রিপুরা হাইকোর্টের সামনে, আশ্রম চৌমুহনী থেকে চন্দ্রপুর ISBT-র মধ্যবর্তী এলাকা এবং ONGC ব্যাংক চৌমুহনী থেকে মূল ONGC প্রবেশপথ পর্যন্ত স্পিড ডিসপ্লে-সহ স্পিড চেকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।

শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি নয়, ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যম, ডিসপ্লে স্ক্রিন, ফ্লেক্স ব্যানার, পোস্টারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট ও সংশ্লিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে প্রচার চালানো হচ্ছে।

গত তিন বছরে CCTV ও ই-চালানের মাধ্যমে কতগুলি ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ধরা পড়েছে, সে প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি ফৌজদারি মামলা নথিভুক্ত করা হয় না। CCTV বা ই-চালানের মাধ্যমে ধরা পড়া আইন লঙ্ঘনের ভিত্তিতে প্রসিকিউশন রিপোর্ট তৈরি করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা আদায় করা হয়।

এদিনের অধিবেশনে টিপরা মথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পুলিশকর্মী বা সরকারি গাড়ির ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন মেনে চলা বাধ্যতামূলক। পুলিশ বা সরকারি গাড়ি ট্রাফিক আইন ভাঙলে তা হওয়া উচিত নয় এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাফিক চেকপোস্ট নিয়েও বিধানসভায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, রাস্তার উপর চেকিংয়ের নামে সাধারণ মানুষের অযথা হয়রানি করার অনুমতি পুলিশের নেই। যথাযথ অনুমোদন ছাড়া কোনও চেকিং বা এনফোর্সমেন্টের কারণে নিয়ম লঙ্ঘিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন তিনি।

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে শুধুমাত্র বেশি সংখ্যায় চালান কাটার ব্যবস্থা হিসেবে দেখা উচিত নয়। ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার (ICCC)-এর মাধ্যমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন আরও কার্যকরভাবে নজরদারি করা হচ্ছে।

ANPR প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি থামিয়ে প্রতিটি যানবাহন পরীক্ষা না করেও নম্বর প্লেট শনাক্ত করে আইন লঙ্ঘনকারী গাড়ির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এতে রাস্তায় অপ্রয়োজনীয় যানজট ও হয়রানি কমার পাশাপাশি ট্রাফিক আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে।

আগরতলার পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য শহর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকাতেও ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু চালানের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং ট্রাফিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধি, নজরদারি জোরদার এবং পথ দুর্ঘটনা কমিয়ে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

You may also like

Leave a Comment