আগরতলায় ধর্নায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা; ২০১৮-এর পর থেকেই রাজ্যে ভয়ের পরিবেশের অভিযোগ
আগরতলা, ১ অক্টোবর: রাজ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তারের দাবি জানাল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। বুধবার আগরতলায় প্রদেশ কংগ্রেস ভবনের সামনে সেবা দলের উদ্যোগে আয়োজিত ধর্না কর্মসূচি থেকে এই দাবি ওঠে। কর্মসূচিতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশিস কুমার সাহা, বিধায়ক গোপাল চন্দ্র রায়সহ দলের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্নামঞ্চ থেকে আশিস কুমার সাহা অভিযোগ করেন, ২০১৮ সালের পর থেকে ত্রিপুরায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। নির্বাচনের সময় ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং ভোট দেওয়ার পরও তাঁদের ভয় দেখানো ও হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শাসক দলের সমর্থকদের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ফলাফল প্রভাবিত করার চেষ্টা এবং ভোটে কারচুপিরও অভিযোগ তোলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য বা পাল্টা প্রতিক্রিয়া এই কর্মসূচিতে উল্লেখ করা হয়নি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিশানা করে আশিস সাহা বলেন, পরিস্থিতির পরিবর্তন হলে একদিন তাঁকে জেলে যেতে হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেপ্তার থেকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য সরকার আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।
এর পাশাপাশি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ‘জিরো টলারেন্স’-এর কথা বললেও ত্রিপুরায় বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও লুটপাট চলছে বলে অভিযোগ করেন আশিস সাহা।
বেকার যুবকদের সমস্যা সমাধানে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি দপ্তরে সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং গোটা রাজ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
কংগ্রেসের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তাদের এই আন্দোলন বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ। এর আগেও আগরতলায় একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
বুধবারের ধর্না থেকে ফের একবার সেই দাবিই জোরালো করল ত্রিপুরা কংগ্রেস।