Home ত্রিপুরাজাল স্বাক্ষরে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! ইউকো ব্যাংকের প্রাক্তন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের লিখিত অভিযোগ

জাল স্বাক্ষরে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ! ইউকো ব্যাংকের প্রাক্তন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গ্রাহকের লিখিত অভিযোগ

by Debasish
0 comments 4 views

আগরতলা, ২১ সেপ্টেম্বর: চিটফান্ড কাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ব্যাংক গ্রাহকের সঞ্চয়ী হিসাব থেকে অনুমতি ছাড়া প্রায় ১১ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৬৯ টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠল ইউকো ব্যাংকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন ব্যাংকের তৎকালীন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার সুরজিৎ মল্লিক। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট নথি ও লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

কৈলাসহারের দুর্গাপুরের বাসিন্দা তথা সরকারি কর্মচারী দিলীপ কুমার দাস বিষয়টি নিয়ে ইউকো ব্যাংকের গুয়াহাটি জোনাল অফিসের সহকারী জেনারেল ম্যানেজার ও ফিল্ড ইন্সপেক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগপত্রে দিলীপবাবু দাবি করেছেন, ২০২১ সালে ধর্মনগরের চন্দ্রপুর শাখা থেকে ১০ লক্ষ টাকার গৃহঋণের জন্য আবেদন করার সময় তৎকালীন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার তাঁকে কয়েকটি টাকা উত্তোলনের রসিদে স্বাক্ষর করতে বলেছিলেন। ব্যাংকের উপর আস্থা রেখে তিনি ওই রসিদগুলিতে স্বাক্ষর করেন বলে তাঁর দাবি।

পরবর্তীতে তাঁর অজ্ঞাতে সেই স্বাক্ষর করা রসিদ ব্যবহার করে তাঁর সঞ্চয়ী হিসাব থেকে বিভিন্ন সময়ে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি ব্যাংক স্টেটমেন্ট পরীক্ষা করার সময় বিষয়টি তাঁর নজরে আসে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

দিলীপবাবুর দাবি, মোট ২৫টি উত্তোলন লেনদেনের মধ্যে সাতটির রসিদ এখনও তাঁর হাতে দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি, কয়েকটি রসিদে তাঁর স্বাক্ষর জাল করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, একটি উত্তোলন রসিদে ‘দিলীপ পাল’ নাম লেখা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ওই রসিদ অনুমোদিত হয়ে টাকা উত্তোলন করা হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওই রসিদের মাধ্যমে ৪৫ হাজার টাকা উত্তোলনের বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এর পাশাপাশি, তাঁর নামে ২ লক্ষ ৪২ হাজার টাকার একটি ঋণ ১৮ মার্চ ২০২২ অনুমোদন ও পরবর্তীতে উত্তোলন করা হয়েছে বলেও তিনি জানতে পেরেছেন বলে অভিযোগ করেছেন। সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবের নম্বর ২৫২০০৬১০০০৮২৯৪ বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

অভিযোগকারীর আরও দাবি, ব্যাংকের এক কর্মী তাঁকে জানিয়েছেন যে তৎকালীন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার ব্যাংক ছাড়ার সময় কয়েকটি উত্তোলনের রসিদ সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এই দাবির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

অন্যদিকে, প্রাক্তন ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি বা সরকারি তদন্তের ফলাফল বর্তমানে প্রকাশ্যে না থাকায় সেগুলিকে সত্য হিসেবে দাবি করা যাচ্ছে না। অভিযোগগুলিরও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।

অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তাঁর ব্যাংক হিসাবের সমস্ত লেনদেন, সংশ্লিষ্ট উত্তোলন রসিদ, ঋণ সংক্রান্ত নথি এবং অনুমোদন প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে আত্মসাৎ হওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

You may also like

Leave a Comment