Home ত্রিপুরাচুড়াইবাড়ি চেকপোস্টে বসতে পারে হাই-টেক গাড়ি স্ক্যানার : মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়

চুড়াইবাড়ি চেকপোস্টে বসতে পারে হাই-টেক গাড়ি স্ক্যানার : মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়

by Debasish
0 comments 10 views

আগরতলা, ৮ সেপ্টেম্বর:
আসাম-ত্রিপুরা সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ চুড়াইবাড়ি চেকপোস্টে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে পারে রাজ্য সরকার। পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচল আরও সুগম করার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে সন্দেহজনক বা অবৈধ পণ্য প্রবেশ রুখতে উন্নত প্রযুক্তির গাড়ি স্ক্যানার বসানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়।

মন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় চেকপোস্টে অপ্রয়োজনীয়ভাবে গাড়ি থামিয়ে রাখার প্রয়োজন কমবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে গাড়ি, পণ্যবাহী সামগ্রী এবং চালকের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ডিজিটালভাবে সংগ্রহ করা যাবে। চালকের নাম ও ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে আগরতলায় রাজ্য সদর দফতরে পাঠানো সম্ভব হবে। ফলে আন্তঃরাজ্য পণ্যবাহী যান চলাচল সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কাছে দ্রুত আপডেট তথ্য পৌঁছে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, এই প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা একদিকে বৈধ পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলকে আরও সহজ ও দ্রুত করতে পারে, অন্যদিকে সীমান্তে নজরদারি আরও জোরদার করবে। ডিজিটাল তথ্যের সাহায্যে সন্দেহজনক পণ্যবাহী যান শনাক্ত করা এবং অবৈধ সামগ্রী বা নেশাজাতীয় দ্রব্যের চলাচল রুখতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলির সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রণজিৎ সিংহ রায় আরও জানান, জিএসটি চালু হওয়ার পর ঐতিহ্যবাহী চেকপোস্টগুলির ভূমিকা অনেকটাই পরিবর্তিত হয়েছে। আগে কর সংক্রান্ত বিভিন্ন শারীরিক যাচাইয়ের যে গুরুত্ব ছিল, জিএসটি-পরবর্তী ব্যবস্থায় তার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। তাই আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণের ওপর নজরদারির ক্ষেত্রে প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প ব্যবস্থার দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

আগরতলার প্রজ্ঞা ভবনে আয়োজিত NextGen HRMS-এর চারটি নতুন মডিউলের রাজ্যস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী এই সম্ভাবনার কথা জানান।

এদিন রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। অর্থ দফতরের উদ্যোগে তৈরি NextGen HRMS-এর মাধ্যমে সরকারি কর্মীদের চাকরিজীবনের বিভিন্ন পরিষেবা একটি অভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগ থেকে শুরু করে সার্ভিস রেকর্ড, ছুটি, বেতন, পেনশন এবং ট্রেজারি-সংযুক্ত অর্থপ্রদান—সমগ্র পরিষেবা ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই এর লক্ষ্য।

মন্ত্রী জানান, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ধাপে ধাপে ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বিধানসভা থেকে পঞ্চায়েত স্তর পর্যন্ত ইতিমধ্যেই ই-অফিস ব্যবস্থা চালু হয়েছে। ডিজিটাল পরিষেবার বিস্তারের ফলে প্রশাসনিক কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি সরকারি পরিষেবা এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা দ্রুত ও আরও স্বচ্ছভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

চুড়াইবাড়িতে প্রস্তাবিত হাই-টেক স্ক্যানার ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে সীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী যান চলাচলে একদিকে যেমন গতি আসতে পারে, তেমনই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারিও আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

You may also like

Leave a Comment