Home আগরতলাগ্রামের দোরগোড়ায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে ‘একদুনিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল’

গ্রামের দোরগোড়ায় ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা, ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে ‘একদুনিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল’

by Debasish
0 comments 18 views

১৭ ও ২৫ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন; ১২০০ ‘এআই মা’, ৫০০ মহিলা উদ্যোক্তা ও ৩০০ সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে যুক্ত করার উদ্যোগ

বিশেষ প্রতিনিধি, আগরতলা, ১ সেপ্টেম্বর:
দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের কাছে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিতে ত্রিপুরায় শুরু হতে চলেছে নতুন উদ্যোগ ‘একদুনিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল’। Positive Message Foundation-এর উদ্যোগে এবং ‘অন্ত্যোদয় ডিজিটাল মিশন’-এর বৃহত্তর ভাবনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে ত্রিপুরার গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত এলাকার পাশাপাশি উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উদ্যোক্তাদের তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে এই উদ্যোগের সূচনা হবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে ওই দিন প্রাথমিকভাবে কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তী বৃহত্তর পর্যায়ের কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ২৫ সেপ্টেম্বর, পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ত্রিপুরার শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল প্রাঙ্গণে।

উদ্যোক্তাদের দাবি, পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি, প্রত্যন্ত গ্রাম এবং যোগাযোগের সমস্যার কারণে ত্রিপুরার বহু মানুষ সময়মতো স্বাস্থ্য পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হন। এই পরিস্থিতিতে ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং প্রশিক্ষিত স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

এই প্রকল্পে ত্রিপুরায় ১২০০ জন ‘এআই মা’ স্বেচ্ছাসেবক, ৫০০ জন মহিলা উদ্যোক্তা এবং ৩০০ জন সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। গ্রামের প্রশিক্ষিত মহিলা কর্মীরা স্থানীয় মানুষের সঙ্গে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবার সংযোগকারী হিসেবে কাজ করবেন।

Positive Message Foundation-এর প্রতিষ্ঠাতা তথা ত্রিপুরা শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল এবং শান্তিনিকেতন মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল, বোলপুরের চেয়ারম্যান মালয় পিট বলেন, সমাজের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য, দূরত্ব বা তথ্যের অভাবে ত্রিপুরার প্রত্যন্ত এলাকার কোনও মানুষ যাতে স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই তাঁদের মূল লক্ষ্য। ‘এআই মা’ মডেলের মাধ্যমে প্রযুক্তির সঙ্গে মানবিক যোগাযোগকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা

‘একদুনিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল’-এর মাধ্যমে মোট সাত ধরনের গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে—

  • ‘এআই মা’ স্বাস্থ্য পরামর্শ
  • প্রাথমিক ডিজিটাল হেলথ কার্ড
  • ক্লিনিক্যাল ও ল্যাবরেটরি সহায়তা
  • বাড়ির দোরগোড়ায় ওষুধ সংক্রান্ত সহায়তা
  • ২৪ ঘণ্টা জরুরি স্বাস্থ্য নির্দেশনা
  • হাসপাতাল রেফারেল ও ভর্তি সংক্রান্ত সহায়তা
  • স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ইতিবাচক তথ্য প্রচার

উদ্যোক্তাদের মতে, এর ফলে চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ, মেডিকেল রিপোর্ট, ল্যাবরেটরি সংক্রান্ত তথ্য, ওষুধ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী হাসপাতালে রেফারেলের ক্ষেত্রে গ্রামীণ মানুষ সহায়তা পাবেন।

নারীর ক্ষমতায়নেও জোর

স্বাস্থ্য পরিষেবার পাশাপাশি গ্রামীণ মহিলাদের ক্ষমতায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই প্রকল্পে। ‘এআই মা’ এবং মহিলা উদ্যোক্তা মডেলের মাধ্যমে গ্রামের মহিলাদের ডিজিটাল দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং পরিষেবা প্রদানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক স্বনির্ভরতার সুযোগ তৈরি হবে বলে উদ্যোক্তাদের আশা।

প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন এবং সার্টিফিকেশনের পর স্বেচ্ছাসেবকদের পরিচয়পত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে স্থানীয় স্তরে একটি দায়িত্বশীল ও সংগঠিত কমিউনিটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয় পিটের বক্তব্য, দূরত্বের কারণে কোনও মানুষ যেন চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত না হন এবং সঠিক তথ্যের অভাবে কোনও পরিবার যেন স্বাস্থ্য পরিষেবা হারিয়ে না ফেলে—এটাই এই উদ্যোগের মূল স্বপ্ন। ‘প্রতি গ্রামে, প্রত্যেক মানুষের জন্য সাত পরিষেবা, সাত অধিকার’—এই বার্তাকে সামনে রেখে ডিজিটাল স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জনমুখী করার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ‘একদুনিয়া ডিজিটাল হাসপাতাল’।

You may also like

Leave a Comment