আগরতলা, ২৭ আগস্ট: চলমান জনগণনা প্রক্রিয়ায় একাংশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে তথ্য পরিবর্তন ও প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুললেন ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশনে বিষয়টি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। মাঠপর্যায়ে জনগণনা কর্মীরা যাতে বাড়িঘরের প্রকৃত অবস্থা অনুযায়ী তথ্য নথিভুক্ত করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে আগের জনগণনা প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর প্রায় ১৬ বছর পর দেশে পূর্ণাঙ্গ জনগণনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই জনগণনা থেকে সংগৃহীত তথ্য আগামী দিনে দেশের নীতি নির্ধারণ, সরকারি প্রকল্প প্রণয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, বিভিন্ন ব্লক ও জেলা থেকে জনগণনা প্রক্রিয়া নিয়ে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও আধিকারিকদের একাংশ গণনাকারীদের কী তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে, তা প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, কিছু এলাকায় গণনাকারীদের বাড়িতে কাঁচা শৌচাগার রয়েছে কি না, লণ্ঠন ব্যবহার করা হয় কি না অথবা বিদ্যুৎ সংযোগ নেই কি না—এ ধরনের বাস্তব তথ্য নথিভুক্ত না করার জন্য বলা হয়েছে। এমনকি মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তথ্য নথিভুক্ত করার পর কিছু কর্মীকে নির্দিষ্ট তথ্য সংশোধন বা বাদ দেওয়ার জন্যও বলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, জনগণনার ক্ষেত্রে ছোটখাটো তথ্য পরিবর্তনকেও হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ জনগণনার পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই বিভিন্ন এলাকার উন্নয়নের প্রয়োজন, সরকারি প্রকল্পের পরিধি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়। কোনও জেলা বা ব্লকের বাস্তব পরিস্থিতিকে কৃত্রিমভাবে উন্নত হিসেবে তুলে ধরা হলে ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনায় ভুল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে তিনি স্পষ্ট করে জানান, তাঁর অভিযোগ গোটা প্রশাসন বা জনগণনা অধিদপ্তরের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে নয়। বরং একাংশ আধিকারিক নিজেদের অধিক্ষেত্রের পরিস্থিতিকে তুলনামূলকভাবে ভালো দেখানোর চেষ্টা করছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিই তিনি বিধানসভায় তুলে ধরেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী ডা. মানিক সাহার কাছে জিতেন্দ্র চৌধুরীর আবেদন, অভিযোগগুলি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে মাঠপর্যায়ের গণনাকারীদের কাজে যেন কোনও আধিকারিক হস্তক্ষেপ না করেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হোক।
তিনি বলেন, জনগণনার সাফল্য নির্ভর করে মাঠপর্যায়ে চাপমুক্ত, স্বচ্ছ ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহের উপর। তাই ত্রিপুরায় চলমান জনগণনা প্রক্রিয়া যাতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ থাকে এবং রাজ্যের প্রতিটি পরিবারের প্রকৃত সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত পরিস্থিতি চূড়ান্ত তথ্যে প্রতিফলিত হয়, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান বিরোধী দলনেতা।