Home আগরতলাPRTC পুরোপুরি বাতিল নয়, স্থানীয়দের স্বার্থে বিকল্প আইনি পথ খুঁজছে সরকার: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী

PRTC পুরোপুরি বাতিল নয়, স্থানীয়দের স্বার্থে বিকল্প আইনি পথ খুঁজছে সরকার: বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী

by Debasish
0 comments 18 views

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ আগস্ট : সরকারি চাকরিতে PRTC বা স্থায়ী বাসিন্দার শংসাপত্র নিয়ে চলা বিতর্কে বিধানসভায় সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা। তিনি জানান, PRTC ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়নি। তবে সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র স্থায়ী বাসিন্দার পরিচয়ের ভিত্তিতে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে সংবিধানগত ও আইনি জটিলতা রয়েছে। সেই কারণে ত্রিপুরার স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে বিকল্প আইনি পথ খোঁজা হচ্ছে।

বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৬ অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে শুধুমাত্র বাসস্থানের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট কোনও গোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিছু রাজ্যে স্থানীয়দের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকলেও তার পেছনে সংসদীয় আইনের ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে ত্রিপুরার ক্ষেত্রে সেই ধরনের বিশেষ আইন নেই বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে PRTC-এর গুরুত্ব পুরোপুরি শেষ হয়ে যাচ্ছে না বলে স্পষ্ট করেন তিনি। শিক্ষা, সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও প্রকল্পের ক্ষেত্রে PRTC-এর প্রাসঙ্গিকতা বহাল থাকবে বলেও বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী।

স্থানীয়দের স্বার্থে ‘স্কুলিং’ মানদণ্ডের ভাবনা

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়টিও সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্থানীয়দের জন্য সুযোগ তৈরি করতে বিকল্প মানদণ্ড নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে।

এর মধ্যে আবেদনকারীর নির্দিষ্ট কয়েক বছরের স্কুলিং বা ত্রিপুরায় পড়াশোনার অভিজ্ঞতাকে একটি মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে আইনি জটিলতা এড়িয়ে স্থানীয় প্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষার একটি কার্যকর ব্যবস্থা তৈরি করা যেতে পারে বলে সরকারের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

আদালতে বিচারাধীন PRTC মামলা

PRTC সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বলেও বিধানসভায় জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারিত রয়েছে। মামলা বিচারাধীন থাকায় আদালতের এখতিয়ারকে সম্মান জানিয়ে সরকার বিষয়টি নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে এগোচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, ত্রিপুরার স্থায়ী বাসিন্দাদের সরকারি চাকরির সুযোগ সুরক্ষিত রাখতে সরকার একটি আইনসম্মত ও শক্তিশালী ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করছে। এমন কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না, যা পরবর্তীতে সহজেই আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

PRTC নিয়ে চলা বিতর্কের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। একদিকে সংবিধান ও আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা, অন্যদিকে রাজ্যের স্থানীয় চাকরিপ্রার্থীদের স্বার্থ রক্ষা—দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রেখে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, এখন সেদিকেই নজর চাকরিপ্রার্থী ও বিভিন্ন মহলের।

You may also like

Leave a Comment