নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা: ত্রিপুরার শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিধানসভায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। ‘বিদ্যাজ্যোতি’ প্রকল্পে ফি আদায়, পর্যাপ্ত পরিকাঠামোর অভাব, শিক্ষক নিয়োগ এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব একজন মন্ত্রীর হাতে থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সুদীপ রায় বর্মন।
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ‘বিদ্যাজ্যোতি’ প্রকল্পের আওতাধীন স্কুলগুলিতে ছাত্রছাত্রীদের কাছ থেকে ফি নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, টাকা নেওয়া হলেও সেই অনুপাতে স্কুলগুলিতে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হচ্ছে না। একাধিক স্কুলে একাডেমিক কাউন্সেলর, পর্যাপ্ত চিকিৎসা পরিকাঠামো, খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
শিক্ষা ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও সরব হন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, একজন মন্ত্রীর হাতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পূর্ত, স্বরাষ্ট্র ও আইন-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব থাকায় প্রতিটি দপ্তরে প্রয়োজনীয় নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। এর ফলে প্রশাসনে ‘অফিসার রাজ’ প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সুদীপ রায় বর্মনের প্রশ্ন, সরকারের কি দক্ষ মন্ত্রীর অভাব রয়েছে যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের দায়িত্ব একজন মন্ত্রীর ওপর দিতে হচ্ছে? তাঁর মতে, দপ্তরগুলির দায়িত্ব ভাগ করে পৃথক মন্ত্রীর হাতে দেওয়া হলে প্রশাসনিক কাজ আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারি পরিকাঠামো দুর্বল করে ধীরে ধীরে বেসরকারিকরণের পথ তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। দেশে গত কয়েক বছরে বিপুল সংখ্যক সরকারি স্কুল বন্ধ হওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে এই প্রবণতাকে ‘অশুভ পরিকল্পনা’ বলে আখ্যা দেন কংগ্রেস বিধায়ক। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার ক্ষেত্রেও শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে কোনও ধরনের আপস করা উচিত নয়।
বক্তব্যের শেষে সরকারকে সতর্ক করে সুদীপ রায় বর্মন বলেন, কণ্ঠরোধ করে বা বক্তব্যের সুযোগ বন্ধ করে সত্যকে চেপে রাখা সম্ভব নয়। ছাত্র ও যুবসমাজ তাদের শিক্ষার অধিকার ও ভবিষ্যৎ নিয়ে একদিন এর জবাব দেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।