আগরতলা, ২৫ আগস্ট: ত্রিপুরার বাঁশভিত্তিক উদ্যোগগুলির প্রশংসা করলেন ন্যাশনাল বাঁশ মিশনের অতিরিক্ত কমিশনার কামনা শর্মা। বিশেষ করে সিমনা এলাকার বাঁশগ্রাম প্রকল্পকে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীলতার একটি উল্লেখযোগ্য মডেল হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত দু’দিনের ত্রিপুরা সফরে ন্যাশনাল বাঁশ মিশনের একটি প্রতিনিধি দলকে নেতৃত্ব দেন কামনা শর্মা। সফরকালে মহনপুর মহকুমার সিমনা বিধানসভা এলাকার বিভিন্ন বাঁশভিত্তিক প্রকল্প পরিদর্শন করেন তাঁরা।
প্রতিনিধি দলটি সিমনা এলাকার কাটলামারা ও শরৎ চৌধুরী এলাকায় রাধা মাধব নার্সারি, বাঁশগ্রাম বাঁশ প্রকল্প এবং ফ্যাশন হ্যান্ডিক্রাফ্টস পরিদর্শন করে। সেখানে বাঁশের চারা, ফুলের গাছ, বাঁশ দিয়ে তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী এবং বাঁশভিত্তিক নানা কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নেন তাঁরা।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কামনা শর্মা বলেন, বাঁশ অত্যন্ত বহুমুখী একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। পরিবেশের ক্ষতি না করেই বাঁশ ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী ও কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। সেই কারণে বাঁশকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উন্নয়নের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাঁশগ্রাম প্রকল্পের পর্যটন সম্ভাবনারও প্রশংসা করেন তিনি। প্রকল্প এলাকায় একটি স্কুল এবং বৃদ্ধাশ্রম থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করে কামনা শর্মা বলেন, প্রকৃতি ও পরিবেশকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই ধরনের স্থানগুলিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করে আরও জনপ্রিয় করা যেতে পারে। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত ও অনুসরণ করা উচিত বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।
বাঁশ সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন ন্যাশনাল বাঁশ মিশনের এই আধিকারিক। তাঁর মতে, স্কুলস্তর থেকেই বাঁশের পরিবেশগত গুরুত্ব এবং এর বহুমুখী ব্যবহার সম্পর্কে ছাত্রছাত্রীদের ধারণা দেওয়া প্রয়োজন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে বাঁশভিত্তিক উদ্যোগ ও পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।
তিনি জানান, বাঁশ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্প ও কর্মকাণ্ডের জন্য ন্যাশনাল বাঁশ মিশনের পক্ষ থেকে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা রয়েছে। আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রকল্পের প্রস্তাব রাজ্য সরকারের কাছে জমা দিতে পারেন। উপযুক্ত প্রকল্পগুলি রাজ্য সরকারের বার্ষিক অ্যাকশন প্ল্যানে অন্তর্ভুক্ত করে অনুমোদন ও অর্থায়নের জন্য পাঠানো যেতে পারে।
ত্রিপুরায় বাঁশকে কেন্দ্র করে পরিবেশ সংরক্ষণ, কর্মসংস্থান, পর্যটন এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলেও সফরকালে উঠে আসে।