আগরতলা,১৭ আগস্ট।। শক্তি, সামর্থ্য ও নিখুঁত কৌশলের দারুণ সমন্বয়ে জমে উঠল পশ্চিম জেলা পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতা। রবিবার কৃষ্ণনগর সুপারি বাগানের দশরথ দেব স্মৃতি ভবনে দিনভর অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিযোগীরা অংশগ্রহণ করেন। একাধিক ওজন বিভাগে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নিজেদের শক্তির পরীক্ষা দেন খেলোয়াড়রা।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ত্রিপুরা অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সচিব সুজিত রায়, ক্রীড়া পর্ষদের যুগ্ম সচিব স্বপন সাহা, রাজ্য সংস্থার সচিব নারায়ণ দেবনাথ এবং ত্রিপুরা ভারোত্তোলন সংস্থার সচিব দুলাল কর্মকার। বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রতিযোগীদের মধ্যে উৎসাহ ও উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
জুনিয়র পুরুষ বিভাগে ৫২ কেজিতে রোহিত দেবনাথ, ৫৯ কেজিতে অভিজিৎ দে, ৬৬ কেজিতে রূপক দেব, ৭৪ কেজিতে জয় পাল, ৮৩ কেজিতে সম্রাট শাহ, ৯৩ কেজিতে অঙ্কন দে এবং ৯৩ কেজির ঊর্ধ্ব বিভাগে সন্দীপ দত্ত প্রথম স্থান অর্জন করেন।
সিনিয়র পুরুষ বিভাগে ৫৯ কেজিতে রজত কুমার দাস, ৬৬ কেজিতে অনীশ চক্রবর্তী, ৭৪ কেজিতে অমরজিৎ দাস, ৮৩ কেজিতে গোপাল বণিক এবং ৯৩ কেজিতে রোহিত ভৌমিক সেরা হন।
মহিলা ও বালিকা বিভাগেও প্রতিযোগীদের মধ্যে ছিল তীব্র লড়াই। সাব-জুনিয়র বালিকা বিভাগে ৪৩ কেজিতে সিমরন আক্তার, ৫২ কেজিতে বৃষ্টি উড়াই এবং ৫২ কেজির ঊর্ধ্ব বিভাগে প্রিয়াঙ্কা ঘোষ প্রথম স্থান দখল করেন। জুনিয়র বালিকা বিভাগে ৫৭ কেজিতে সেরা হন উর্বশী সাহা।
বালক বিভাগে ৫৩ কেজিতে রাহুল দেবনাথ, ৫৯ কেজিতে দেবরাজ দেববর্মা, ৬৬ কেজিতে সুদীপ্ত দাস এবং অপর ৬৬ কেজি বিভাগে রানেল দাস প্রথম স্থান অর্জন করেন। সিনিয়র মহিলা বিভাগে ৬২ কেজিতে সুরভী কর এবং ৬৯ কেজিতে তনুশ্রী পাল সাফল্য পান।
তবে দিনের প্রতিযোগিতায় বাড়তি নজর কেড়ে নেন অমরজিৎ দাস। সিনিয়র পুরুষদের সামগ্রিক বিভাগে শক্তি ও দক্ষতার দাপট দেখিয়ে তিনি অর্জন করেন ‘Overall Strong Man of West District’-এর মর্যাদাপূর্ণ খেতাব। তাঁর এই সাফল্য প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে।
প্রতিযোগিতা শেষে অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে রাজ্য সংস্থার প্রাক্তন ও বর্তমান সিনিয়র খেলোয়াড়দের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁদের উপস্থিতি নবীন প্রতিযোগীদের উৎসাহ আরও বাড়িয়ে দেয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, পশ্চিম জেলা পাওয়ার লিফটিং প্রতিযোগিতার মতো আয়োজন তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই শক্তিনির্ভর খেলাটির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী দিনে নতুন প্রতিভা তুলে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
