Home আগরতলাত্রিপুরার উন্নয়নে সড়ক, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর বিপ্লব দেবের

ত্রিপুরার উন্নয়নে সড়ক, পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর জোর বিপ্লব দেবের

by Roy
0 comments

আগরতলা, ১৬ আগস্ট: ত্রিপুরা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংসদের সদ্য সমাপ্ত অধিবেশনে তুলে ধরেছেন পশ্চিম ত্রিপুরার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। বিশেষ করে জাতীয় সড়ক, রেল যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা, সার সরবরাহ, প্রাকৃতিক গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও মৎস্যসহ একাধিক বিষয়ে সংসদে সরব হয়েছেন তিনি। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সংসদে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় ও রাজ্যের উন্নয়নমূলক উদ্যোগের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সাংসদ।

বিপ্লব দেব জানান, ত্রিপুরা সংক্রান্ত মোট ৫৭টি তারকা ও অতারকা প্রশ্ন তিনি সংসদে জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৫টি প্রশ্ন আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার বিষয়টি তাঁর উত্থাপিত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল।

ত্রিপুরার জাতীয় সড়কগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের বন্যায় রাজ্যের বিভিন্ন সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণেও রাস্তার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলির সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান সাংসদ।

দীর্ঘস্থায়ী ও টেকসই যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিটুমিনের পরিবর্তে কংক্রিটের রাস্তা তৈরির বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার প্রস্তাব দেন তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে উদয়পুর-অমরপুর সড়কের একটি অংশ কংক্রিট দিয়ে নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানান বিপ্লব দেব। তাঁর মতে, প্রাথমিকভাবে কংক্রিটের রাস্তা তৈরিতে খরচ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে এর স্থায়িত্ব বেশি এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচ তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

banner

সাংসদ হিসেবে উন্নয়নমূলক কাজে তাঁর সংসদীয় তহবিলের ব্যবহারের তথ্যও তুলে ধরেন বিপ্লব দেব। তাঁর দাবি, রাজ্যসভা ও লোকসভায় দায়িত্ব পালনের সময়ে MPLADS-এর মাধ্যমে মোট ১৫ কোটি ৭৬ লক্ষ টাকা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর সুপারিশের ভিত্তিতে ত্রিপুরার ২৪ জন উপভোক্তা প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল থেকে সম্মিলিতভাবে ৫৬ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা সহায়তা পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

পর্যটন ক্ষেত্রের উন্নয়ন নিয়েও একাধিক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন সাংসদ। দত্তেশ্বরী কালীবাড়ি, বিলোনিয়া ও জোলাইবাড়িতে পর্যটন সংক্রান্ত প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি জিরানিয়ার মাজলিশপুরে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি পৃথক পর্যটন প্রকল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান।

ঐতিহাসিক উনকোটির উন্নয়ন নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন বিপ্লব দেব। শুধু ঐতিহাসিক পাথর খোদাই ভাস্কর্য পরিষ্কার ও সংরক্ষণ করলেই হবে না, পর্যটকদের জন্য সামগ্রিক পরিকাঠামো গড়ে তুলতে হবে বলে মত তাঁর। সীমানা প্রাচীর, ক্যাফেটেরিয়া, শৌচাগার, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং আধুনিক সংরক্ষণ পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেন তিনি।

সংসদে পাস হওয়া বিভিন্ন বিল এবং ফরেন কন্ট্রিবিউশন রেগুলেশন অ্যাক্টের সংশোধনী নিয়েও বক্তব্য রাখেন সাংসদ। রাজ্যের অসম্পূর্ণ জাতীয় সড়কের কাজ, পর্যটন প্রকল্পসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করে যাওয়ার আশ্বাস দেন বিপ্লব দেব।

রাজ্যের সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে ত্রিপুরাকে আরও উন্নত ও পর্যটনবান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান তিনি।

You may also like

Leave a Comment