আগরতলা, ৭ আগস্ট: স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে আগামী ৯ থেকে ১৭ আগস্ট সারা দেশের সঙ্গে ত্রিপুরাতেও উদযাপিত হবে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানের পঞ্চম সংস্করণ। দেশাত্মবোধ জাগিয়ে তুলতে এবং জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের লক্ষ্যে রাজ্যজুড়ে তিরঙ্গা র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সচেতনতামূলক কর্মসূচি, বাইক ও সাইকেল র্যালিসহ একাধিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শুক্রবার আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব কিরণ গিত্তে জানান, ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে ‘আজাদি কা অমৃত মহোৎসব’-এর অংশ হিসেবে শুরু হওয়া ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান এখন সারা দেশের গণআন্দোলনে পরিণত হয়েছে। এবারের কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন, যার মাধ্যমে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই ঐতিহাসিক দেশাত্মবোধক গানের অবদানকে স্মরণ করা হবে।
এই উপলক্ষে রাজ্যের বাড়িঘর, সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি স্বাধীনতা সংগ্রামী ও জাতীয় বীরদের স্মৃতিসৌধেও তিরঙ্গা দিয়ে বিশেষভাবে সজ্জিত করা হবে।
আগামী ১১ আগস্ট আগরতলার উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে রাজ্যস্তরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা একটি বর্ণাঢ্য তিরঙ্গা র্যালির সূচনা করবেন। একই দিনে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় সরকারের মনোনীত মন্ত্রীদের নেতৃত্বে অনুরূপ র্যালি ও বিভিন্ন স্মারক কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
সচিব কিরণ গিত্তে জানান, সাধারণ মানুষের ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিরঙ্গা র্যালি, তিরঙ্গা কনসার্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বাইক ও সাইকেল র্যালি, সচেতনতা অভিযান এবং গ্রাম-পঞ্চায়েত পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও ১১ আগস্ট আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনে দেশাত্মবোধক প্রদর্শনী ও বিশেষ তিরঙ্গা কনসার্ট অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে জাতীয় পতাকা বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী (এসএইচজি) তিন ধরনের আকারে জাতীয় পতাকা তৈরি করছে, যা একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করছে, অন্যদিকে ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযানকে আরও সফল করে তুলবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের অধিকর্তা বিম্বিসার ভট্টাচার্য জানান, স্কুল-কলেজ, যুব সংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, এনজিও এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন সক্রিয়ভাবে এই কর্মসূচিতে অংশ নেবে। তাঁর আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ত্রিপুরায় দেশপ্রেম, জাতীয় ঐক্য এবং সম্মিলিত গর্বের চেতনা আরও সুদৃঢ় হবে।
৯ থেকে ১৭ আগস্ট ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ অভিযান: ত্রিপুরাজুড়ে দেশাত্মবোধক নানা কর্মসূচি, ১১ আগস্ট আগরতলায় মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিরঙ্গা র্যালি
1