উদয়পুর, ৮ আগস্ট: বিদ্যুৎ বিলের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, স্মার্ট মিটার এবং প্রিপেইড রিচার্জ ব্যবস্থা নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হল গোমতী জেলা যুব কংগ্রেস। শুক্রবার ৩১ রাধাকিশোরপুর ব্লক যুব কংগ্রেসের উদ্যোগে একাধিক দাবিতে ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি কর্পোরেশন লিমিটেডের (TSECL) বন্ধুয়ার ইলেকট্রিক্যাল উদয়পুর ডিভিশন কার্যালয়ে ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
সংগঠনের অভিযোগ, গত কয়েক মাস ধরে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে চলেছে। নতুন কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার না করা সত্ত্বেও বহু গ্রাহকের মাসিক বিল কয়েকগুণ বেড়ে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে দাবি যুব কংগ্রেসের। দীর্ঘদিন ধরে যে সমস্ত পরিবারের মাসিক বিদ্যুৎ বিল ৫০০-৬০০ টাকার মধ্যে ছিল, তাদের ক্ষেত্রে হঠাৎ এই বৃদ্ধি কেন হচ্ছে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা রাজ্যবাসীর কাছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্মার্ট মিটার বসানো নিয়েও আপত্তি জানিয়েছে যুব কংগ্রেস। তাদের দাবি, স্মার্ট মিটার স্থাপনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ওপর কোনও ধরনের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়। পাশাপাশি প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল রিচার্জের প্রক্রিয়ায় গ্রাহকদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ সংগঠনের।
ডেপুটেশনটি TSECL-এর বন্ধুয়ার ইলেকট্রিক্যাল উদয়পুর ডিভিশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আনন্দ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ৩১ রাধাকিশোরপুর ব্লক যুব কংগ্রেসের সভাপতি প্রসেনজিৎ ব্যানার্জি, গোমতী জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ দাস, সাধারণ সম্পাদক প্রীতম বৈদ্য-সহ জেলা ও ব্লক স্তরের অন্যান্য নেতৃত্ব।
ডেপুটেশনে মোট ছয় দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে—বিদ্যুৎ বিলের মাশুল কমানো, মিটার চার্জ হ্রাস, স্মার্ট মিটার স্থাপনের সিদ্ধান্ত বাতিল, প্রিপেইড কার্ডের মাধ্যমে রিচার্জের নামে গ্রাহকদের হয়রানি বন্ধ, TSECL-এর ঠিকাদারদের বকেয়া বিল দ্রুত পরিশোধ এবং বিদ্যুৎ দপ্তরের শূন্যপদে দ্রুত কর্মী নিয়োগ।
যুব কংগ্রেস নেতৃত্বের বক্তব্য, বিদ্যুৎ পরিষেবা সাধারণ মানুষের মৌলিক পরিষেবাগুলির অন্যতম। তাই বিল বৃদ্ধি ও মিটার সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করা জরুরি। দাবিগুলি দ্রুত পূরণ না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
