Home ত্রিপুরা৩০ লক্ষ টাকার ঋণ, ফের ক্রোক বাড়িপ্রশাসনিক অভিযানে ঘরের আসবাব বাইরে, অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে চরম সংকটে পরিবার

৩০ লক্ষ টাকার ঋণ, ফের ক্রোক বাড়িপ্রশাসনিক অভিযানে ঘরের আসবাব বাইরে, অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে চরম সংকটে পরিবার

by Debasish
0 comments 0 views

তেলিয়ামুড়া, ২২ সেপ্টেম্বর: ব্যবসায়িক প্রয়োজনে নেওয়া প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ঋণ পরিশোধ না করার অভিযোগে ফের বাড়ি ক্রোকের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে তেলিয়ামুড়ার গৌরাঙ্গ টিলা এলাকায়। মঙ্গলবার প্রশাসনিক আধিকারিক ও বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে দেওয়ার পর পুনরায় বাড়িটি ক্রোক করে ঋণ প্রদানকারী সংস্থা চোলা ম্যান্ডেলাম ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেড।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৪ সালে গৌরাঙ্গ টিলা এলাকার বাসিন্দা সুকমল রায় ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট ফাইন্যান্স সংস্থা থেকে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ নেন। ওই ঋণের গ্যারান্টার হিসেবে তাঁর বাবা সুধীর রায়-কে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

ফাইন্যান্স সংস্থার দাবি, নির্ধারিত সময়ে ঋণের কিস্তি ও বকেয়া অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ২০২৫ সালে গ্যারান্টারের বাড়িতে তালা লাগানো হয়। সে সময় ঋণ পরিশোধ অথবা বাড়ি বিক্রি করে ঋণ নিষ্পত্তির জন্য পরিবারকে সতর্ক করা হয়েছিল বলেও সংস্থার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের লাগানো তালা ভেঙে সুকমল রায় ফের ওই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন বলে অভিযোগ। এরপর ঋণ পরিশোধের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও তাতে সাড়া মেলেনি বলে দাবি ঋণ প্রদানকারী সংস্থার।

এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার ফের গৌরাঙ্গ টিলা এলাকায় অভিযান চালানো হয়। প্রশাসনিক আধিকারিক ও পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে বাড়ির ভিতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে দেওয়ার পর বাড়িটি পুনরায় ক্রোক করা হয়।

বাড়ি হারিয়ে অনিশ্চিত আশ্রয়

অভিযানের পর ঘটনাটির মানবিক দিকটি সামনে এসেছে। বাড়িটি ক্রোক হওয়ায় সুকমল রায়ের সঙ্গে তাঁর অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবাও আশ্রয়হীন পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন বলে জানা গেছে। বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে এখন কোথায় আশ্রয় নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবারটি।

একদিকে বিপুল অঙ্কের ঋণ, অন্যদিকে ঋণ আদায়ের আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ—সব মিলিয়ে চরম সংকটে পড়েছে পরিবারটি। ঋণ পরিশোধের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি অসুস্থ বৃদ্ধ দম্পতির ভবিষ্যৎ আশ্রয়ের বিষয়টিও স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

এদিনের অভিযানে উপস্থিত ছিলেন চোলা ম্যান্ডেলাম ফাইন্যান্স প্রাইভেট লিমিটেডের এরিয়া লিগ্যাল ম্যানেজার কৌশিক ভাগবতী, তেলিয়ামুড়া মহকুমা শাসক কার্যালয়ের ডিসিএম জিনিয়াস দেববর্মা-সহ তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ বাহিনী।

ঋণ আদায়ের প্রক্রিয়া ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় মানবিক প্রশ্ন—অসুস্থ বৃদ্ধ মা-বাবাকে নিয়ে এই পরিবারের পরবর্তী আশ্রয় কোথায় হবে?

You may also like

Leave a Comment